
দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ–কাহারোল) আসনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মনজুরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে তিনি মোট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৪৮৯ ভোট পেয়ে বিজয় অর্জন করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মতিউর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ৪৮৮ ভোট। ফলে মনজুরুল ইসলাম ৬২ হাজার ১ ভোটের উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিনাজপুর-১ আসনে মোট ১২৮টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয় এবং সবকটি কেন্দ্রের ফলাফল গণনা শেষে এই বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ভোটগ্রহণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারি ছিল এবং কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
উপজেলা ভিত্তিক ফলাফলে দেখা যায়, বীরগঞ্জ উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীক বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। এখানে মনজুরুল ইসলাম পান ১ লাখ ১৮ হাজার ৭৫১ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মতিউর রহমান পান ৭৮ হাজার ৫৫৮ ভোট। এ উপজেলায় ব্যবধান দাঁড়ায় ৪০ হাজার ১৯৩ ভোট। অন্যদিকে কাহারোল উপজেলায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী পান ৫৯ হাজার ৭৩৮ ভোট এবং দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী পান ৩৭ হাজার ৯৩০ ভোট। কাহারোলে ভোটের ব্যবধান ছিল ২১ হাজার ৮০৮।
এছাড়া অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে জাতীয় পার্টির নাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী শাহিনুর ইসলাম পেয়েছেন ১ হাজার ৫১৫ ভোট। বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মো. চাঁন মিয়া পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৪ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী মো. রিজওয়ানুল ইসলাম পেয়েছেন ৫৯৩ ভোট এবং জাকের পার্টির গোলাপ ফুল প্রতীকের প্রার্থী রঘুনাথ চন্দ্র রায় পেয়েছেন ২ হাজার ২৬২ ভোট।
ফলাফল ঘোষণার পর ধানের শীষের সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। বিভিন্ন স্থানে নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন এবং বিজয় উদযাপন করেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দিনাজপুর-১ আসনে এ ফলাফল স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে। বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয় পাওয়ায় আগামী দিনে মনজুরুল ইসলামের ওপর এলাকাবাসীর প্রত্যাশাও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন