
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম দাড়িপাল্লা প্রতীকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, তিনি মোট ১ লাখ ৫ হাজার ৪৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ড. মোঃ মনিরুজ্জামান পান ৮৪ হাজার ৪২৪ ভোট। ফলে গাজী নজরুল ইসলাম ২১ হাজার ৩৮ ভোটের ব্যবধানে জয় লাভ করেন।
এ আসনে অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে হাতপাখা প্রতীক পেয়েছে ১ হাজার ৮৪৮ ভোট এবং লাঙ্গল প্রতীক পেয়েছে ৪২৬ ভোট। সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। নারী-পুরুষসহ সব বয়সী ভোটার স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। উপকূলীয় এই জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ভোটগ্রহণ ও পরবর্তী গণনা শেষ হয়। কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ফলাফল ঘোষণার পর গাজী নজরুল ইসলাম আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন এবং শ্যামনগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, “এই বিজয় শ্যামনগরের জনগণের বিজয়। আমি সকল ভেদাভেদ ভুলে এলাকার উন্নয়ন, নদীভাঙন রোধ, উপকূলীয় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে কাজ করবো।” তিনি আরও বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদার এবং তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো তার অগ্রাধিকার থাকবে।
অন্যদিকে পরাজিত প্রার্থী ড. মোঃ মনিরুজ্জামান ফলাফল মেনে নিয়ে সমর্থকদের শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “জনগণের রায়ই চূড়ান্ত। আমরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” তার এ বক্তব্যে রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলাফল ঘোষণার পর বিজয়ী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণের খবর পাওয়া গেছে। বিভিন্ন স্থানে সমর্থকরা দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে স্লোগান দেন।
উপকূলঘেঁষা শ্যামনগর উপজেলার জনগণের প্রত্যাশা, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যা—বিশেষ করে বেড়িবাঁধ সংস্কার, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ, ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় স্থায়ী অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সুন্দরবননির্ভর জীবিকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন। স্থানীয়দের মতে, টেকসই উন্নয়ন ও দুর্যোগ সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন