
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে চমক দেখিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। জেলার চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পরাজিত করে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রার্থীরা বিজয় অর্জন করেছেন। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আক্তার সব কেন্দ্রের ফলাফল বিশ্লেষণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফল ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ। ১৬৮টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোটসহ) চূড়ান্ত ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব (ধানের শীষ) পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয় নিশ্চিত করেন ইজ্জত উল্লাহ। এ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৪০৪টি এবং ‘না’ ভোট ১ লাখ ২১ হাজার ২৫৬টি। মোট ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৫.৬৪ শতাংশ।
সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। ১৮০টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি অর্জন করেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। বিএনপির প্রার্থী মো. আব্দুর রউফ (ধানের শীষ) পান ১ লাখ ৫০ হাজার ২৮৩ ভোট। ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন আব্দুল খালেক। এ আসনে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট ২ লাখ ৯২ হাজার ৮২৮টি এবং ‘না’ ভোট ৮৬ হাজার ৬১৯টি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৩.৭৯ শতাংশ।
সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে। জামায়াতের মুহা. রবিউল বাসার ১৬৫টি কেন্দ্রের ফলাফলে পান ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম (ফুটবল প্রতীক) পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৮৯ ভোট। ৭৮ হাজার ৮৪৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন রবিউল বাসার। বিএনপির প্রার্থী কাজী আলাউদ্দিন পান ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯২৫টি এবং ‘না’ ভোট ১ লাখ ৪ হাজার ৮৮৩টি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭০.৯৯ শতাংশ।
সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনে পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলাম। ৯৬টি কেন্দ্রের ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। বিএনপির প্রার্থী ড. মো. মনিরুজ্জামান পান ৮৫ হাজার ৪৬৬ ভোট। ২১ হাজার ৪৪৭ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন নজরুল ইসলাম। এ আসনে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৪১টি এবং ‘না’ ভোট ৬০ হাজার ৭৭৯টি। ভোটার উপস্থিতি ছিল ৬৭.৭৬ শতাংশ।
চারটি আসনেই জয় পাওয়ায় জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, সংগঠিত প্রচারণা, তৃণমূল পর্যায়ের সমন্বয় এবং ভোটার উপস্থিতির হার এই ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পর বিভিন্ন স্থানে বিজয়ী প্রার্থীদের সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা যায়।
মন্তব্য করুন