
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নড়াইল জেলার দুটি সংসদীয় আসনে ভিন্নধর্মী ফলাফল এসেছে। নড়াইল-১ আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং নড়াইল-২ আসনে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ২টায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
নড়াইল-১ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিজয়ী হয়েছেন। ১১২টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোটসহ) ফলাফলে তিনি পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ওবায়দুল্লাহ কায়সার দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৭৫ হাজার ২২৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোট প্রদান করেন ১ লাখ ৮৮ হাজার ৭৫৫ জন ভোটার। ভোটের ব্যবধানে স্পষ্ট জয় পেয়ে বিএনপি এ আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
অন্যদিকে নড়াইল-২ আসনে জেলা জামায়াতের আমির মো. আতাউর রহমান বাচ্চু দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ১৪৮টি কেন্দ্রের (পোস্টাল ভোটসহ) ফলাফলে ১ লাখ ১৮ হাজার ১৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মো. মনিরুল ইসলাম (কলস প্রতীক) পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৪৫৭ ভোট। এছাড়া ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদ পেয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৬৩ ভোট। এ আসনে মোট ভোট প্রদান করেন ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৮১ জন ভোটার।
নড়াইল-২ আসনে এ জেড এম ফরিদুজ্জামান ফরহাদের জন্য এটি টানা তৃতীয় পরাজয়। তিনি এর আগে নবম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এস কে আবু বাকের ১ লাখ ২৫ হাজার ৪৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্রিকেটার মাশরাফি বিন মুর্তজা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ২ লাখ ৭১ হাজার ২১০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন, যেখানে ফরহাদ মাত্র ৭ হাজার ৮৮৩ ভোট পান। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি অংশ নেননি।
এবারের নির্বাচনে নড়াইলের দুই আসনে মোট ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট দলগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সংগঠনগত শক্তি, প্রার্থীর ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং ভোটার উপস্থিতি—এই তিনটি বিষয় ফলাফলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে।
দুটি আসনে ভিন্ন দুই দলের জয় নড়াইলের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন