
রমজান মাসকে ঘিরে রোজার ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিশদ আলোচনা তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি বলেন, ইসলামের পাঁচটি মূল ভিত্তির অন্যতম হলো রোজা, যা ঈমান ও নামাজের পর গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান ধারণ করে। প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন।
পবিত্র কুরআনের সূরা আল-বাকারা’র ১৮৩ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, “হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর, যাতে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।” এ আয়াতের আলোকে তিনি ব্যাখ্যা করেন, রোজা কেবল পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; বরং এটি আত্মশুদ্ধি, সংযম ও আল্লাহভীতির এক অনন্য অনুশীলন।
হাদিসে কুদসীতে মহান আল্লাহ ঘোষণা করেছেন, “রোজা আমার জন্য, আমিই এর প্রতিদান দেব।” এ প্রসঙ্গে লেখক বলেন, অন্যান্য নেক আমলের সাওয়াব দশ থেকে সাতশ’ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলেও রোজার প্রতিদান অসীম ও বেহিসাবি। কারণ রোজা একান্তই বান্দা ও তার রবের মধ্যকার গোপন ইবাদত, যা ইখলাসের সর্বোচ্চ প্রকাশ ঘটায়।
সহিহ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, “যে ব্যক্তি ঈমান ও সাওয়াবের আশায় রমজানের রোজা পালন করবে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” এছাড়া রমজান মাসে জান্নাতের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ রাখা হয় এবং শয়তানকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করা হয়—যা রোজার বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ বহন করে।
লেখক আরও উল্লেখ করেন, রোজা জাহান্নাম থেকে রক্ষাকারী ঢালস্বরূপ। কিয়ামতের দিন রোজা ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। এমনকি জান্নাতে ‘রাইয়ান’ নামে একটি বিশেষ দরজা রয়েছে, যা দিয়ে কেবল রোজাদাররাই প্রবেশ করবে।
রোজার আরেকটি তাৎপর্যপূর্ণ দিক হলো ধৈর্যচর্চা। ক্ষুধা, তৃষ্ণা ও নফসের চাহিদা দমন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মধ্য দিয়ে একজন মুমিন আত্মসংযমের সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেন। ইফতারের সময় রোজাদারের এক ধরনের আনন্দ সৃষ্টি হয়, আরেকটি আনন্দ অপেক্ষা করে কিয়ামতের দিন, যখন সে তার রবের সাক্ষাৎ লাভ করবে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, রমজান কেবল একটি মাস নয়; এটি গুনাহ মাফ, আত্মশুদ্ধি ও জান্নাত লাভের সুবর্ণ সুযোগ। তিনি সকল মুসলমানকে রোজার আদব ও বিধিবিধান যথাযথভাবে পালন করে এ মাসের পূর্ণ ফজিলত অর্জনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া করে বলেন, আল্লাহ যেন আমাদের রোজা কবুল করেন এবং এ ইবাদতকে কিয়ামতের দিন সুপারিশকারী হিসেবে গ্রহণ করেন।
মন্তব্য করুন