
বান্দরবান, আলীকদম: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডে এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। স্থানীয়রা শনিবার রাত ১০টার দিকে ৭০ বছর বয়সী রহিমা বেগমকে গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনি আবু তালেবের স্ত্রী এবং আবদুর রহমানের মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ রয়েছে। নিহতের ছেলে আবদুর রহমানের সংসারে দীর্ঘদিন ধরে অশান্তি চলছিল। বিশেষ করে শাশুড়ির যথাযথ যত্ন না নেওয়া এবং স্বামীর মনোযোগের অসমতা প্রথম স্ত্রী ইয়াসমিন আক্তারের মধ্যে ক্রমশ ক্ষোভ তৈরি করেছিল।
ঘটনার রাতে ইয়াসমিন আক্তার (৩৫) ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশকে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়ার জন্য জানান। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি নিজের শাশুড়িকে গরুর জবাই করার দা দিয়ে হত্যা করেছেন এবং দায় ছোট বউ রোকসানা আক্তারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছিলেন।
আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর হোসেন শাহ জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত অন্য দুইজনকে — ফাতেমা বেগম (২৭) এবং সাথী আক্তার (১৫) — হেফাজতে নিয়েছে। এছাড়া নিহতের মোবাইল ফোন ও বাড়িতে কারা প্রবেশ করেছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিহতের ছেলে আবদুর রহমান বলেছেন, “আমার মায়ের বয়স ৭০ বছর। তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর প্যারালাইসিসে ভুগছিলেন। এ বয়সে এমন নির্মমভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমার বড় বউ আমাকে হত্যা করার হুমকি দিত, আমি চাই এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার হোক।”
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য অলিউর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখে থানায় খবর দেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, পারিবারিক কলহ এত ভয়াবহ রূপ নেবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি। মায়ের সেবা না করা, স্বামীর মনোযোগের অসমতা এবং স্ত্রীর মধ্যে ক্রমশ বাড়তে থাকা ঘৃণা-জেল্লাসের জটিলতা দীর্ঘদিন ধরে সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করেছিল।
রহিমা বেগমের মৃত্যু এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এমন পারিবারিক কলহে হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়েছে।
মন্তব্য করুন