
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে খরিপ-১ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ (বীজ উৎপাদন) আবাদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সোমবার দুপুরে উপজেলা কৃষি অফিস চত্বরে অনুষ্ঠিত বীজ ও সার বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এস,এম ইসপাকুল করিম। অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করেছেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
অনুষ্ঠানে মোট ৭৫ জন কৃষককে ১ বিঘা জমিতে চাষের জন্য নিম্নলিখিত কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়:
১ কেজি গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ
২৫ কেজি ইউরিয়া সার
২৫ কেজি ডিএপি
২৫ কেজি এমওপি
২৫ কেজি জিপসাম
১ কেজি জিংক
১ কেজি বোরণ
২০০ কেজি ভার্মি কম্পোস্ট সার
৭ কেজি বালাইনাশ
১টি সচেতনতামূলক সাইনবোর্ড
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল হাসান বলেন, “সরকারের এ উদ্যোগের ফলে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষকরা আর্থিকভাবে লাভবান হবেন। একই সঙ্গে দেশে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন বাড়লে আমদানি নির্ভরতা কমবে।”
এছাড়াও, অংশগ্রহণকারী কৃষকদের পেঁয়াজ কন্দ উৎপাদন ও সংরক্ষণ বিষয়ক এক দিনের প্রশিক্ষণ প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক চাষপ্রণালী, রোগ ও শত্রু ব্যবস্থাপনা ও সঠিক সংরক্ষণ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান লাভ করবেন।
উপস্থিত কৃষকরা সরকারের এ সহায়তায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা জানান, সময়োপযোগী এই প্রণোদনা তাদের আবাদে উৎসাহ যোগ করবে এবং বীজ ও সার সরবরাহ পদ্ধতি কৃষিকাজকে আরও সহজ ও লাভজনক করবে।
পীরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, কৃষকরা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হবেন এবং দেশীয় বাজারে পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ার ফলে আমদানি কমিয়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ ধরনের প্রণোদনা কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হলে পীরগঞ্জসহ ঠাকুরগাঁও জেলার কৃষি উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মন্তব্য করুন