
মান্দারবাড়িয়া এলাকায় অবৈধ মাছ আহরণের অভিযোগে শুক্রবার বনবিভাগের অভিযান চালিয়ে ২২ জন জেলেকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তাদের ব্যবহৃত দুটি ট্রলার, মাছ ধরার সরঞ্জাম এবং প্রায় ৪০০ কেজি শাপলা পাতা মাছ জব্দ করা হয়।
বনবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল ১০টার দিকে নিয়মিত টহল কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মান্দারবাড়িয়া সংলগ্ন নদী এলাকায় সন্দেহজনকভাবে মাছ আহরণের সময় জেলেদের আটক করা হয়। অভিযানে অংশ নেওয়া সহকারী বন সংরক্ষক মশিউর রহমান জানান, জেলেরা অনুমতি ছাড়া সংরক্ষিত বনাঞ্চলে প্রবেশ করে অবৈধভাবে মাছ আহরণ করছিল।
অভিযানকালে দুটি ট্রলার থেকে দড়ি, বরফের বক্সসহ মাছ ধরার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এছাড়াও আনুমানিক ৪০০ কেজি শাপলা পাতা মাছও বনবিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক ২২ জন জেলের বিরুদ্ধে বন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট রেঞ্জ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি আরও জানান, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং অবৈধ আহরণ বন্ধে বনবিভাগ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা এবং কঠোর নজরদারির মধ্যেও কিছু অসাধু জেলে জীবিকার তাগিদে ঝুঁকি নিয়ে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করছেন। তবে বনবিভাগ জানিয়েছে, আইন অমান্য করে বনসম্পদ আহরণ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযানে আটককৃত জেলেদের মধ্যে রয়েছে জামাল হাওলাদার (৩২), মোঃ ছোমেদ (৪৫), মোঃ কালু (৪৮), ফরহাদ (৩০), মোঃ ইয়াছিন খান (৪০), দুলাল গাজী (৩০), মোঃ হানিফ হাওলাদার (৪০), মোঃ রাসেল (৩০), মোঃ শফিকুল খান (২০), রাজীব হাওলাদার (অপ্রাপ্ত) সহ আরও অনেকে। বেশিরভাগ জেলেই পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে।
জেলেরা জানান, কুয়াশার কারণে তারা পথ ভুলে মান্দারবাড়িয়ার কাছে চলে আসেন। তখন বন বিভাগের একটি টহল দল তাদের আটক করে।
বনবিভাগের এই অভিযান সুন্দরবনের পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিভিন্ন সময়ে মাছ, কাঁকড়া এবং অন্যান্য প্রজাতির আহরণে নিষেধাজ্ঞা জারি থাকে। এসব অভিযান প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হিসেবে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও বনবিভাগ এই ধরনের নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাবে।
এই ধরনের উদ্যোগ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষা, বনাঞ্চলের নিরাপত্তা ও স্থানীয় জীবিকা সুরক্ষার মধ্যে একটি সুষম ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
মন্তব্য করুন