
জীবিকার তাগিদে পরিবারের স্বচ্ছলতার আশায় বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন শরণখোলার যুবক আবু মুসা তালুকদার। কিন্তু স্বপ্নের সেই প্রবাস জীবনই হয়ে উঠল তার শেষ যাত্রা। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়ে অবশেষে নিথর দেহে ফিরছেন তিনি মায়ের বুকে।
বাগেরহাট জেলার শরণখোলা উপজেলার ২ নম্বর খোন্তাকাটা ইউনিয়নের রাজৈর গ্রামের বাসিন্দা আবু মুসা তালুকদার (প্রায় ৩০) মাত্র তিন মাস আগে সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যান। পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করা, ছোট সন্তানের ভবিষ্যৎ গড়া এবং বৃদ্ধ মা-বাবার মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়েই তিনি বিদেশে পাড়ি জমান। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সেখানে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন তিনি।
গতকাল রাতে সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় আবু মুসা নিহত হন। তার সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। গভীর রাতে মৃত্যুর খবরটি গ্রামে পৌঁছালে নেমে আসে শোকের ছায়া। মুহূর্তেই কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে রাজৈর গ্রামের পরিবেশ।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, আবু মুসার তিন বছর বয়সী একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। বাবার স্নেহ-ভালবাসায় বড় হওয়ার আগেই তাকে হারাতে হলো শিশুটিকে। অবুঝ সন্তানটি এখনও বুঝতে পারেনি, তার বাবা আর কখনও ঘরে ফিরবেন না। যে বাবার ফেরার আশায় প্রতিদিন অপেক্ষায় থাকত ছোট্ট দুটি চোখ, সেই বাবা এখন নিথর দেহে দেশে ফিরবেন—এ বাস্তবতা মেনে নিতে পারছে না কেউই।
নিহতের মা-বাবা সন্তানের মৃত্যুতে শোকে বাকরুদ্ধ। স্বজনরা জানান, সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আবু মুসা। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। প্রতিবেশীরা জানান, তিনি অত্যন্ত পরিশ্রমী ও ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই বিদেশে গিয়েছিলেন, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আর ফেরা হলো না জীবিত অবস্থায়।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারটির আর্থিক সহায়তা এবং সরকারি সহযোগিতারও আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা ও ঝুঁকির আরেকটি নির্মম উদাহরণ হয়ে রইল আবু মুসা তালুকদারের মৃত্যু। তার অকাল প্রয়াণে শোকস্তব্ধ পুরো শরণখোলা।
মন্তব্য করুন