
নড়াইলের কালিয়া উপজেলায় সাইবার সুরক্ষা আইনে দায়ের করা এক মামলায় অভিযুক্ত এক যুবককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। ভুয়া ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অপপ্রচার ও প্রতারণার অভিযোগে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) অভিযান চালিয়ে কালিয়া থানা পুলিশ বড় কালিয়া গ্রামের মৃত কারী শাহজাহান শেখের ছেলে ওমর ফারুক শেখ (৩০) কে গ্রেফতার করে। তিনি স্থানীয় একটি মডেল ইসলামিক ফাউন্ডেশনে কেয়ারটেকার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুয়া (ফেইক) ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, আপত্তিকর ও মানহানিকর তথ্য প্রচার করতেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ দাবি করার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এক ভুক্তভোগী গৃহবধূর স্বামী এসব অভিযোগে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলাটি থানার ০৭ নম্বর মামলা হিসেবে রুজু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক পোস্ট ছড়িয়ে স্থানীয়ভাবে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনার সৃষ্টি করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী পরিবার আইনের আশ্রয় নেয়।
মামলা দায়েরের পরপরই কালিয়া থানা পুলিশ প্রযুক্তিগত সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অভিযুক্তের ব্যবহৃত আইডি ও ডিজিটাল কার্যক্রম বিশ্লেষণ করে তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ। এরপর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
কালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের জানান, “ডিজিটাল মাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার বা মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। সাইবার সুরক্ষা আইনে এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সাইবার অপরাধ দমনে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”
গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালতের নির্দেশে তাকে নড়াইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে দায়িত্বশীলতা ও সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য শেয়ার না করা এবং অন্যের সম্মানহানিকর বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি করাও সময়ের দাবি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে নিরাপদ ও ইতিবাচক ব্যবহারের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
মন্তব্য করুন