
বিশ্ব সুন্দরবন দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ১০টায় সুন্দরবন সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির কার্যালয়ে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বন বিভাগ, সাংবাদিক ও সুধীজনদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লির্ডাসের পরিচালক মোহন কুমার মন্ডল। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মাহমুদা খানম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জি আই জেট-এর প্রতিনিধি সালে মুসা, পঞ্চানন ঢালী এবং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক রনজিত কুমার বর্মন, বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আইয়ুব আলী, শিক্ষক পবিত্র কুমার, আব্দুর রশিদ, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল হালিম, মাস্টার বশির আহমেদ, জেলে আজিজুর রহমানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
কর্মসূচির শুরুতেই অনুষ্ঠিত হয় চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা। এতে পাঁচটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে মোট ১০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা সুন্দরবন-এর জীববৈচিত্র্য, রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নদী-খাল ও উপকূলীয় মানুষের জীবনচিত্র ফুটিয়ে তোলে। তাদের সৃজনশীল উপস্থাপনায় বন ও প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা এবং সচেতনতার বার্তা প্রতিফলিত হয়। বিচারকরা সৃজনশীলতা, বিষয়বস্তুর গভীরতা ও উপস্থাপনার মান বিবেচনা করে বিজয়ীদের নির্বাচন করেন। পরে তাদের হাতে পুরস্কার ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা শেষে কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। অংশগ্রহণকারীরা সুন্দরবন রক্ষায় সচেতনতামূলক বিভিন্ন স্লোগান দেন। র্যালিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, বন বিভাগের কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন হিসেবে সুন্দরবন দেশের প্রাকৃতিক ঢাল ও জীববৈচিত্র্যের অন্যতম ভাণ্ডার। জলবায়ু পরিবর্তন, অবৈধ আহরণ, বন নিধন ও দস্যুতার মতো নানা হুমকি থেকে এই বনকে রক্ষা করতে হলে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মাঝে সুন্দরবনের গুরুত্ব তুলে ধরতে এমন আয়োজন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
শেষে সুন্দরবন সংরক্ষণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আয়োজকদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিই এ ধরনের কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
মন্তব্য করুন