
পবিত্র রমজানকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার পৌর শহরসহ বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে অস্বাভাবিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। বিশেষ করে ইফতার সামগ্রী ও কাঁচাবাজারের পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষজন। বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিংয়ের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
সরেজমিনে উপজেলার পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি করে বাজার করছেন, আবার কেউ কেউ পুরো মাসের বাজার একসঙ্গে করার চেষ্টা করছেন। এতে চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
বর্তমানে দেশি পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১২ থেকে ১৩ টাকা বেড়ে প্রকারভেদে ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন কেজিতে ৪০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় এবং আমদানিকৃত চায়না রসুন ২০ টাকা বেড়ে মানভেদে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচের দামও বেড়ে প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় পৌঁছেছে।
কাঁচাবাজারে টমেটো প্রকারভেদে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, ফুলকপি ৩০ থেকে ৫০ টাকা, বাঁধাকপি ৩০ টাকা, বেগুন ৪০ টাকা, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা এবং শিমের বিচি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মুদি দোকানগুলোতে ছোলা কেজিপ্রতি ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মসুর ডাল ১২০ টাকা, খোলা চিনি ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দুই কেজির প্যাকেট আটা ১১০ টাকা এবং দুই কেজির প্যাকেট ময়দা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় দিনমজুর সুরত আলী বলেন, “রমজান এলেই সবকিছুর দাম বেড়ে যায়। সারাদিন কাজ করে যা আয় করি, তা দিয়ে ঠিকমতো বাজার করতে পারি না। একটা কিনলে আরেকটা বাদ দিতে হয়। নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হলে আমাদের মতো মানুষ কিছুটা স্বস্তি পেতাম।”
ব্যবসায়ীরা বলছেন, রমজান মাসে চাহিদা বৃদ্ধি এবং আমদানি কম থাকায় পেঁয়াজ, রসুন ও অন্যান্য নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। তাদের দাবি, পরিস্থিতি সাময়িক এবং কয়েক দিনের মধ্যে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কিছুটা কমে আসবে।
তবে সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন। তারা প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও বাজার মনিটরিং জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং নিয়মিত তদারকি জোরদার করা গেলে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বস্তি পাবে।
মন্তব্য করুন