
রমজান মাসকে কেন্দ্র করে কোরআনের মাহাত্ম্য ও তাৎপর্য নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরেছেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, লেখক ও কলামিস্ট হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী। তিনি বলেন, রমজান এমন এক মহিমান্বিত মাস, যে মাসে মহান আল্লাহ তায়ালা মানবজাতির দিশারী হিসেবে পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ করেছেন।
তিনি কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করে উল্লেখ করেন, সূরা আল-বাকারা-এর ১৮৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন—রমজান মাসেই কোরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য হেদায়াত, সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। তিনি ব্যাখ্যা করেন, লওহে মাহফুজ থেকে সমগ্র কোরআন একবারে দুনিয়ার আকাশের বায়তুল ইজ্জতে অবতীর্ণ হয়, এরপর ধাপে ধাপে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর নাজিল হতে থাকে। এই দ্বিস্তর অবতরণ রমজান মাসকে আরও মর্যাদাবান করেছে।
হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী বলেন, রমজান ও কোরআনের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। ইমাম যুহরি (রহ.)-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, রমজান হলো কোরআন তেলাওয়াত ও দান-সদকার মাস। কোরআন ও রোজা—উভয়ের লক্ষ্য তাকওয়া অর্জন। সূরা আল-বাকারা-এর ১৮৩ নম্বর আয়াতে রোজার উদ্দেশ্য হিসেবে তাকওয়ার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে কোরআনকে মুত্তাকিদের জন্য হেদায়াত বলা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রমজান মাসে অন্যান্য আসমানি কিতাবও নাজিল হয়েছে বলে সহিহ হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সহিফা, হজরত মুসা (আ.)-এর তাওরাত, হজরত দাউদ (আ.)-এর যাবুর এবং হজরত ঈসা (আ.)-এর ইঞ্জিল—সবই রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়। সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ আল-কোরআনও এই মাসেই নাজিল হয়, যা রমজানের মর্যাদাকে অনন্য উচ্চতায় অধিষ্ঠিত করেছে।
কোরআন সংরক্ষণ প্রসঙ্গে তিনি সূরা আল-হিজর-এর ৯ নম্বর আয়াত উদ্ধৃত করে বলেন, আল্লাহ নিজেই কোরআনের সংরক্ষণের দায়িত্ব নিয়েছেন। তবে বাস্তব জীবনে কোরআন হেফাজতে হাফেজদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারাবি নামাজের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে হাফেজগণ কোরআন তেলাওয়াত ও চর্চার এক অনন্য সুযোগ পান।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতি রমজানে হজরত জিবরাইল (আ.) মহানবী (সা.)-এর সঙ্গে কোরআন পর্যালোচনা করতেন। এমনকি ওফাতের বছরে দুইবার কোরআন পাঠ ও শ্রবণ অনুষ্ঠিত হয়, যা কোরআনের সংরক্ষণ ও বিশুদ্ধতার ঐতিহাসিক প্রমাণ বহন করে।
পরিশেষে হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী দেশ-বিদেশের মুসলমানদের প্রতি আহ্বান জানান, রমজান মাসে কোরআন তেলাওয়াত, অনুধাবন ও আমলের মাধ্যমে নিজেদের জীবন আলোকিত করতে হবে। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন, যেন সবাই কোরআনের শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করে প্রকৃত মুত্তাকি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
মন্তব্য করুন