
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় শুক্রবার দুপুরে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। হঠাৎ কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে জনমনে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি ছিল তুলনামূলকভাবে বেশি।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা My Earthquake Alerts-এর তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এ ভূমিকম্প আঘাত হানে। রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৩। সংস্থাটির প্রাথমিক তথ্য বলছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলা এলাকায়। ভূমিকম্পের গভীরতা ও সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকা, বিশেষ করে আশাশুনি, শ্যামনগর ও সদর উপজেলায় বসবাসরত মানুষ শক্ত ঝাঁকুনি অনুভব করেন। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে ঘরের আসবাবপত্র দুলে ওঠে এবং অনেকেই আতঙ্কে ঘর থেকে বের হয়ে খোলা স্থানে আশ্রয় নেন।
ঘটনার সময় জুমার নামাজের প্রস্তুতি চলছিল। অনেক মুসল্লি মসজিদে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ ভূমিকম্প শুরু হলে আতঙ্কিত হয়ে অনেকে দ্রুত মসজিদ থেকে বেরিয়ে আসেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানী ঢাকাতেও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়। বহুতল ভবনে অবস্থানরত বাসিন্দারা জানান, কয়েক সেকেন্ড ধরে ভবন দুলতে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ভূমিকম্প অনুভূতের বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা দেখা যায়। দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকেও একই ধরনের অনুভূতির খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় মাঝেমধ্যে এমন কম্পন অনুভূত হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে ভবন নির্মাণে যথাযথ মান বজায় রাখা এবং ভূমিকম্প সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
ভূমিকম্পের পরপরই সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে আসে। তবুও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সবাইকে সচেতন থাকার এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে।
মন্তব্য করুন