
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের শ্রীধরপাশা গ্রামে উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। পবিত্র রমজানুল মোবারক উপলক্ষে শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) শ্রীধরপাশা গ্রামস্থ উমরা মিয়া কোরেশী হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
প্রয়াত উমরা মিয়া কোরেশীর পরিবারের উদ্যোগে গড়ে ওঠা উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই সমাজের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং কলকলিয়া ইউনিয়ন ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের কোষাধ্যক্ষ ও সুনামগঞ্জ জেলা মানবাধিকার কাউন্সিলের আজীবন উপদেষ্টা হাবিব আলম কোরেশীর নেতৃত্বে বিভিন্ন মানবিক ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও রোজাদার ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অংশগ্রহণে দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
মাহফিলে প্রয়াত উমরা মিয়া কোরেশীসহ তার পরিবারের মরহুম সদস্যদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এ সময় দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশনের বিশিষ্ট মুরব্বি আফরোজ আলম কোরেশী, কলকলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য এবং উমরা মিয়া কোরেশী হাফিজিয়া মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটির সভাপতি লিয়াকত হোসেন অমৃত, ফাউন্ডেশনের সদস্য সালমান আলম কোরেশী, আনোয়ার হোসেন, আরমান আলম কোরেশীসহ ফাউন্ডেশনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মাহফিলে অংশগ্রহণ করেন।
মাহফিল শুরুর আগে রোজার গুরুত্ব ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা করেন শ্রীধরপাশা সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম ও খতিব হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, রমজান মাস আত্মশুদ্ধি, সংযম ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। রোজার মাধ্যমে মানুষ ধৈর্য, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণের শিক্ষা লাভ করে। সমাজে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় উমরা মিয়া কোরেশী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হাবিব আলম কোরেশী বলেন, মানবকল্যাণে কাজ করাই আমাদের সংগঠনের মূল লক্ষ্য। মানুষের সেবার মধ্য দিয়েই প্রকৃত ধর্মের প্রতিফলন ঘটে। তিনি বলেন, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে ফাউন্ডেশন ভবিষ্যতেও বিভিন্ন কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে উপস্থিত রোজাদারদের সঙ্গে ইফতার পরিবেশন করা হয়। দোয়া ও ইফতার মাহফিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় এক ধর্মীয় ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ ধরনের আয়োজনকে সমাজে সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বলে মত প্রকাশ করেন।
মন্তব্য করুন