
শ্রীপুর উপজেলায় পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হ্যান্ডকাফ পরিহিত দুই ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার সন্ধ্যায় উপজেলার ২নং গাজীপুর ইউনিয়নের নিজ মাওনা এলাকার ইসমাইল মোড়ে এ চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত কয়েকজন আসামিকে আটক করার লক্ষ্যে শ্রীপুর থানা এবং টাঙ্গাইল সদর থানা-র সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছালে অভিযুক্তরা তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। এ সময় তারা অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থাতেই দুই আসামি পুলিশের হাত ফসকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। আকস্মিক এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যরা সাময়িকভাবে বিপাকে পড়লেও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা চালান। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই শ্রীপুর থানা ও মাওনা পুলিশ ক্যাম্প থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পুরো এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও চিরুনি অভিযান চালানো হয়। পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ফলে পালিয়ে যাওয়া দুই আসামিসহ আরও তিনজনকে পুনরায় গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনকালে তাদের কাজে বাধা দেওয়া ও হামলার অভিযোগে নতুন মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। হামলায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন।
বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর হামলার মতো ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি আইনের শাসনের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ। তারা দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন