
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় ৫৭ পিস ইয়াবাসহ মো. শাহীন (৩৫) নামের এক কথিত মাদক কারবারিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। সোমবার (২ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার রায়েন্দা ফেরিঘাট সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
আটক শাহীন পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার বড় মাছুয়া গ্রামের মো. কামাল হোসেনের ছেলে বলে জানা গেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন এবং উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা শাহীনকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
শরণখোলা থানার ওসি (তদন্ত) নেতৃত্বাধীন একটি টিম খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহীনকে ইয়াবাসহ হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন স্বীকার করে যে, সে দীর্ঘদিন ধরে রায়েন্দা বাজার এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে মঠবাড়িয়া অঞ্চলে খুচরা বিক্রি করে আসছিল। ঘটনার রাতে রায়েন্দা পূর্বমাথা কামারপট্টি এলাকার আল-আমিন শাহ নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকায় ৫৭ পিস ইয়াবা ক্রয় করেছে বলেও সে জানায়।
অভিযান চলাকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে দেওয়া বক্তব্যে শাহীন দাবি করে, শরণখোলা বর্তমানে মাদকের বিস্তারে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এবং একে “স্বর্গরাজ্য” হিসেবে ব্যবহার করছে একটি চক্র। তবে তার এ বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে মাদক কারবারিদের ধরিয়ে দিলেও পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত তৎপরতা সবসময় দৃশ্যমান নয়। তাদের দাবি, চিহ্নিত কিছু মাদক ব্যবসায়ী প্রশাসনের নজরের সামনেই কার্যক্রম চালিয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে। এতে করে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীরা ক্রমেই বিপথে যাচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাগেরহাট-৪ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীম মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করে প্রশাসনকে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই দাবিতে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকেও মানববন্ধন ও আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। তবে স্থানীয়দের মতে, পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি এখনো পরিলক্ষিত হয়নি।
এর আগে গত ৮ জানুয়ারি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক অভিযানে রায়েন্দা এলাকা থেকে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ ইলিয়াস তালুকদার নামে এক যুবক গ্রেপ্তার হয়। তবুও মূল হোতারা এখনো আইনের আওতার বাইরে রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামিনুল হক জানান, আটক শাহীনের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং সোমবার সকালে তাকে বাগেরহাট আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও তা চলবে।”
মন্তব্য করুন