
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার ৪নং সাউথখালী ইউনিয়নের খুলিয়াখালী পিলের রাস্তা সংলগ্ন এলাকায় গত রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে আরিফুল ইসলাম মাসুম নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন মিলন বিবৃতিতে ঘটনার দায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র ওপর চাপান।
এর প্রতিবাদে সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় শরণখোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা জামায়াত। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রফিকুল ইসলাম কবির দাবি করেন, উল্লিখিত ঘটনার সঙ্গে জামায়াতের কোনো নেতাকর্মী জড়িত নন। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের দলকে জড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “ঘটনার সঙ্গে যার সম্পৃক্ততার কথা শোনা যাচ্ছে, তিনি জামায়াতে ইসলামীর কেউ নন। আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, পারিবারিক সমস্যার জের ধরেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে এটিকে রাজনৈতিকভাবে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।”
তিনি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে নিরপরাধ ব্যক্তিদের যেন হয়রানি না করা হয়, সে বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহরিয়ার রুবেল দাবি করেন, ঘটনার আগের সন্ধ্যায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি মীমাংসা হয়। পরে মাসুম অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের লক্ষণ শনাক্ত করেন বলে জানান তিনি। অক্সিজেন ও সিপিআর দেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, নির্বাচনকালীন সহিংসতায় তাদের ১০-১৫ জন কর্মী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলা হয়।
এ ঘটনায় শরণখোলা থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় খলিল বয়াতি, তানজের হাওলাদার ও শাহজালাল বয়াতি নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
মন্তব্য করুন