
ফাগুনের আগুনরাঙা ঋতুতে প্রকৃতি যেন নতুন সাজে সেজেছে। মধুমাসের আগমনী বার্তায় ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে চারপাশ। এরই মধ্যে আমের মুকুলের মিষ্টি ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা মাগুরা। গাছে গাছে ফুটেছে সোনালি রেণুতে ভরা আমের মুকুল, আর সেই সুবাসে ব্যস্ত সময় পার করছে মৌমাছিরা।
জেলার চারটি উপজেলা—মাগুরা সদর, শ্রীপুর, মহম্মদপুর ও শালিখা—ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন গ্রাম ও বাড়ির আঙিনায় আমগাছগুলো এখন মুকুলে ছেয়ে গেছে। সবুজ আমপাতার বিছানায় সোনালি মুকুল যেন ফাগুনকে স্বাগত জানিয়ে ফুলশয্যা সাজিয়েছে। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলা।
মাগুরা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১,২৭৫ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। জি.কে. আইডিয়াল ডিগ্রি কলেজের কৃষি শিক্ষা বিষয়ের সহকারী অধ্যাপক বাবু সনৎ কুমার বসু বলেন, “আমের ফলন সম্পূর্ণভাবে আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর মাগুরায় ভালো ফলন হবে বলে আশা করছি।”
মাগুরা উপজেলার মালঞ্চী গ্রামের সৌখিন আমচাষি আব্দুল আজিজ মণ্ডল জানান, প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে থেকেই গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। “কিছু গাছ ইতোমধ্যে পুরোপুরি মুকুলে ভরে গেছে, আবার কিছু গাছে নতুন করে মুকুল বের হচ্ছে। মুকুল আসার পর থেকেই নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেছি,” বলেন তিনি।
শ্রীপুর উপজেলার সরইনগর গ্রামের চাষি কুতুবুল আলম শাহীন জানান, তার প্রায় ৪০০টি আমগাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। “রোগবালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ স্প্রে করছি এবং গাছের গোড়ায় নিয়মিত পানি দিচ্ছি,” বলেন তিনি।
মাগুরা কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ তাজুল ইসলাম জানান, জেলায় ব্যক্তি উদ্যোগে অসংখ্য ছোট ছোট আমবাগান রয়েছে। পৌরসভা ও চারটি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নেই কম-বেশি আমগাছ রয়েছে। “আমের ভালো ফলনের জন্য আমরা সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত,” বলেন তিনি।
এদিকে শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর আমের মুকুল বেশি এসেছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সকল বাগান মালিককে সার্বিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর কৃষকের যত্নে এবারও মাগুরায় আমের সম্ভাবনাময় মৌসুমের স্বপ্ন দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে জেলায় মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত বাম্পার ফলন।
মন্তব্য করুন