
চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চৌডালা এলাকায় জোরপূর্বক জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী জমির মালিকরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের শাস্তি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চৌডালা মাদরাসা মোড় কলেজপাড়া এলাকায় এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেন স্থানীয় ভুক্তভোগী জমির মালিক, এলাকাবাসী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র এলাকায় প্রভাব খাটিয়ে মানুষের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এতে করে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, এলাকার কথিত ভূমিদস্যু শরিফুল, মতিন, শাহ আলম ও বদিউরসহ একটি চক্র বিভিন্ন সময় জমির মালিকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে জমি দখলের অপচেষ্টা করছে। শুধু তাই নয়, জমি দখলের সময় চাঁদাবাজির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। অনেক ক্ষেত্রে জমির প্রকৃত মালিকদের হুমকি দিয়ে জমি ছেড়ে দিতে বাধ্য করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, এসব ঘটনায় স্থানীয় জমির মালিকরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। কেউ কেউ নিরাপত্তার অভাবে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছেন না। তাই প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
বক্তারা বলেন, “আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার রক্ষার জন্যই আজ রাস্তায় দাঁড়িয়েছি। আমাদের জমি আমরা রক্ষা করতে চাই। যারা অন্যায়ভাবে জমি দখল করতে চায় এবং চাঁদাবাজি করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় বাসিন্দা মো. জুয়েল আলী, বাইরুল ইসলাম, তাজেমুল হক, সাম মোহাম্মদ, আনারুল হক, আব্দুল মজিদসহ আরও অনেকে। তারা বলেন, এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে যাবে এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে।
এদিকে এ বিষয়ে গোমস্তাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক জানান, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
স্থানীয়রা আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে এবং ভুক্তভোগীরা তাদের ন্যায্য অধিকার ফিরে পাবেন।
মন্তব্য করুন