
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় পূর্ব শত্রুতার জেরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় একটি খড়ের ঘর ও মোরগের ঘর পুড়ে প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (রাত ১২টার দিকে) উপজেলার জগদীশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বুধবার গভীর রাতে হঠাৎ করে সোহেল আহমদ তালুকদারের বাড়ির খড়ের ঘর ও মোরগ রাখার ঘরে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের লেলিহান শিখা দেখে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা পুকুর থেকে সেচের মেশিন ও পাইপের মাধ্যমে পানি এনে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। এলাকাবাসীর দ্রুত তৎপরতায় আগুন পাশের বসতঘরে ছড়িয়ে পড়ার আগেই নিয়ন্ত্রণে আসে, ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত সোহেল আহমদ তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, এটি কোনো সাধারণ অগ্নিকাণ্ড নয়; বরং পূর্ব বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে কেউ অগ্নিসংযোগ করেছে। তার দাবি, আগুন লাগার পর ঘরের বিভিন্ন স্থানে পেট্রোলের তীব্র গন্ধ পাওয়া গেছে এবং ঘরের একাধিক স্থানে আলাদাভাবে আগুন ধরানো হয়েছিল। এতে তার খড়ের ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায় এবং মোরগ রাখার ঘরে থাকা প্রায় ২০ থেকে ২৫টি মোরগ আগুনে পুড়ে মারা যায়। সব মিলিয়ে তার প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি জানান।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিন মিয়া তালুকদার, ফয়সাল মিয়া, আনাছ আলী, ধন মিয়া, সুলতান মিয়া, কেবলাল মিয়া ও লেবু মিয়া বলেন, রাতের অন্ধকারে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসি এবং সবাই মিলে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। তারা জানান, ঘটনাস্থলে পেট্রোলের গন্ধ পাওয়া গেছে বলে তাদের সন্দেহ হয়েছে এটি পরিকল্পিতভাবে লাগানো আগুন। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন কর্মকর্তা মো. মুর্শেদুল আলম জানান, ঘটনার খবর ফায়ার সার্ভিসকে দেওয়া হলেও তাদের পৌঁছানোর আগেই এলাকাবাসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অন্যদিকে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের খবর পুলিশ পেয়েছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন