
বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার তাফালবাড়ী বাজারে ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে আসরের নামাজের পর ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
বিক্ষোভ মিছিলটি তাফালবাড়ী বাজারের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বাজার এলাকায় একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ স্থানীয় বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন। বক্তারা ছাত্রদল নেতা মাসুম হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান এবং দ্রুত হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত আরিফুল ইসলাম মাসুম বাগেরহাটের শরনখোলা উপজেলার ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়নের খুঁড়িয়াখালি গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি ছাত্রদলের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ নেতা হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। গত ১ মার্চ তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার সহকর্মী ও স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, মাসুম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।
পথসভায় বক্তব্য রাখেন ৪ নম্বর সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন। তিনি বলেন, “ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুম ছিলেন দলের একজন ত্যাগী ও সাহসী কর্মী। তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, একটি মহল এ ঘটনার দায় এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সাধারণ মানুষ প্রকৃত ঘটনা সম্পর্কে সচেতন রয়েছে এবং তারা এই হত্যার সঠিক বিচার প্রত্যাশা করছে।
সমাবেশে উপস্থিত নেতারা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এ ধরনের হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তারা দাবি করেন, মাসুম হত্যার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা না হলে স্থানীয় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আরও বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
এ সময় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তারা হাতে ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন এবং হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
সভা শেষে নিহত ছাত্রদল নেতা আরিফুল ইসলাম মাসুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয় এবং তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়। পাশাপাশি দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান বক্তারা।
মন্তব্য করুন