
নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলায় বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে গাছে গাছে ফুটে উঠেছে আমের সোনালি মুকুল। উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান, বাড়ির আঙিনা এবং রাস্তার ধারের পুরোনো গাছগুলো এখন মুকুলে ভরে উঠেছে। মুকুলের মিষ্টি সুবাসে পুরো পরিবেশ হয়ে উঠেছে মনোরম এবং চাষিদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছে এবারের ভালো ফলনের সম্ভাবনা।
স্থানীয়রা জানান, গত বছরের তুলনায় এবছর গাছে মুকুলের পরিমাণ অনেক বেশি। স্থানীয় আমচাষিরা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঝড়-বৃষ্টি বা কীটপোকার আক্রমণ না হলে এবার আমের ফলন ভালো হবে।
নলডাঙ্গার কৃষি কর্মকর্তা মো. সবুজ আলী জানান, উপজেলার প্রায় ৪২০ হেক্টর জমিতে আনুমানিক ৩৪ হাজার ৮০০টি আমগাছ রয়েছে। এসব গাছ থেকে মোট ৫ হাজার ৪০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, “ভালো ফলনের জন্য গাছের গোড়া পরিষ্কার রাখা, জৈব ও রাসায়নিক সার মাটির সঙ্গে ভালোভাবে মিশিয়ে দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেচ প্রদান জরুরি। পাশাপাশি গুটি মটরদানা হলে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করলে রোগবালাই কমে এবং ফলন বাড়ে।”
কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুকুল আসার এই সময়টিতে গাছের সঠিক পরিচর্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রোগবালাই দমন, সঠিক সেচ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে ফলনের মান ও পরিমাণ বৃদ্ধি করা সম্ভব।
উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, সব আমগাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে। স্থানীয় আমবাগানগুলোর পাশাপাশি বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধারের গাছগুলোতেও এই দৃশ্য চোখে পড়ছে। এতে চাষি ও গাছের মালিকরা নতুন আশায় উদ্দীপ্ত।
চাষিরা জানান, “এ বছর শুরুতেই গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবং রোগবালাই কম থাকলে এবার আমের ভালো ফলনের আশা করছি।”
নলডাঙ্গায় আমের বাম্পার ফলন শুধু চাষিদের জন্য নয়, স্থানীয় অর্থনীতির জন্যও আশার বার্তা। সফল ফলন হলে স্থানীয় বাজারে তাজা আমের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং চাষিরা লাভবান হবেন।
নলডাঙ্গা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা সবাইকে সতর্ক করেছেন, মুকুল আসার সময় গাছের যত্ন নেওয়া এবং রোগবালাই প্রতিরোধ করা অপরিহার্য। সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে এবারের আমের বাম্পার ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন