
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করে দুটি ড্রেজার ও প্রায় দুই হাজার ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ মার্চ ২০২৬) বিকালে উপজেলার শ্রীকাইল ইউনিয়ন ও আকুবপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে আকুবপুর ইউনিয়নের পীর কাশিমপুর বিল এবং শ্রীকাইল ইউনিয়নের সোনাকান্দা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার এবং প্রায় ২ হাজার ফুট পাইপ অপসারণ করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে ওইসব এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এতে স্থানীয় পরিবেশের ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ও বিলের স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়।
অভিযানের সময় বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী শ্রীকাইল ইউনিয়নের সোনাকান্দা গ্রামের কাইয়ুম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত ড্রেজার ও পাইপ অপসারণ করে ধ্বংস করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাছান খাঁন। এ সময় বাঙ্গরা বাজার থানার এসআই নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনায় সহযোগিতা করে।
উপজেলা প্রশাসন জানায়, অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে অনেক সময় নদী, বিল ও কৃষিজমির স্বাভাবিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়, অন্যদিকে স্থানীয় মানুষের জীবিকা ও কৃষি কার্যক্রমও হুমকির মুখে পড়ে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাকিব হাছান খাঁন জানান, অবৈধভাবে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে আইনবিরোধী এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।
এদিকে প্রশাসনের এ অভিযানে স্থানীয় বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হলে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ হবে এবং পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষা পাবে।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও অবৈধ বালু উত্তোলনসহ যেকোনো ধরনের পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন