
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে একটি ট্রলার উপহার দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবন ভ্রমণের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের মাঝে পরিবেশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়েছে।
শনিবার (৭ মার্চ) সকাল ১১টায় শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন ঘাটে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা সংগঠন Breaking the Silence-এর সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের নিরাপদ নদী পারাপারের সুবিধার্থে ট্রলারটি হস্তান্তর করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মিলন দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবা অধিদপ্তর সাতক্ষীরার সহকারী পরিচালক মোঃ রোকনুজ্জামান, জেলা শিক্ষা অফিস সাতক্ষীরার একাডেমিক সুপারভাইজার আ.ন.ম. নাজমুল উলা, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মোল্লা, গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জি এম মাছুদুল আলম এবং বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, উপকূলীয় এই অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন নদী পার হয়ে স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে। বিশেষ করে গাবুরা ইউনিয়নের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ যাতায়াত একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঝুঁকিপূর্ণ নৌযানে পারাপার করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থাকে। নতুন এই ট্রলারটি শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও সহজ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। এই ট্রলার শিক্ষার্থীদের সময় ও ঝুঁকি—দুইই কমাবে এবং তাদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাতায়াতে সহায়তা করবে।
এছাড়াও বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনএ ভ্রমণে আসা পর্যটক ও স্থানীয়দের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে নৌযান চালক, পর্যটক গাইডসহ সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের মাঝে ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। পর্যটন এলাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধ করতে সবাইকে সচেতন হতে হবে। ডাস্টবিন ব্যবহারের মাধ্যমে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হবে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এ ধরনের উদ্যোগকে শিক্ষার্থীদের সহায়তা এবং সুন্দরবনের পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মন্তব্য করুন