
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ রায়েন্দা খালসহ বিভিন্ন সংযোগ খাল কচুরিপানা ও আগাছা উদ্ভিদের দখলে পড়ায় পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে খালের পানি নষ্ট হয়ে দৈনন্দিন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত খাল খনন ও কচুরিপানা অপসারণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন খাল মিলিয়ে প্রায় ২২ থেকে ২৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে কচুরিপানা ও আগাছার স্তূপ জমে রয়েছে। এর ফলে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। নৌ-চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিকাজ ও গৃহস্থালির নানা কাজে ব্যবহৃত পানিও এখন ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় ১৫ বছর ধরে নিয়মিতভাবে এসব খাল পরিষ্কার না করায় কচুরিপানা জমে পানি প্রবাহ পুরোপুরি থমকে গেছে, যা জনজীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
একসময় এসব খালের পানি রান্না, গোসল, থালা-বাসন ধোয়া এবং গবাদিপশুর পানীয় জলের কাজে ব্যবহার করা হতো। কিন্তু বর্তমানে খালের পানি আগাছা ও ময়লায় কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, এর আগে ২০১২ সালে শরণখোলার তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কে এম মামুন-উজ্জামানের উদ্যোগে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে প্রায় ২৫ কিলোমিটার খাল থেকে কচুরিপানা অপসারণ করা হয়েছিল। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আবারও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলা সদর রায়েন্দা বাজার খাল, নলবুনিয়া খাল, আমড়াগাছিয়া খাল, জীবন দুয়ারীর খাল, ছোট রাজাপুর খাল, উত্তর রাজাপুর খাল, তাফালবাড়ী বড় খাল, সোনাতলার খাল, তালতলির খাল, উত্তর তাফালবাড়ী খাল ও রাজেশ্বরের খালসহ বিভিন্ন ছোট-বড় খাল বর্তমানে কচুরিপানা ও আগাছায় প্রায় ভরাট হয়ে গেছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কচুরিপানা পচে খালের পানি দূষিত হচ্ছে এবং সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ফসল উৎপাদনেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দ্রুত কচুরিপানা অপসারণ করে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং পানি ব্যবহারের উপযোগী করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
রাজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আ. কালাম হাওলাদার বলেন, “একসময় এসব খালে নিয়মিত জোয়ার-ভাটার পানি চলাচল করত। তখন পানিও ভালো ছিল। এখন কচুরিপানা ও আগাছা জমে যাওয়ায় জোয়ার-ভাটার স্রোত কমে গেছে এবং পানি নষ্ট হয়ে গেছে।”
চাল রায়েন্দা গ্রামের বাসিন্দা আমজেদ আলী হাওলাদার জানান, কিছু মাছ শিকারি খালের মাঝখানে চায়না দুয়ারী জাল ও বুচনা জাল পেতে মাছ ধরেন। এতে কচুরিপানা আটকে থাকে এবং ধীরে ধীরে খালগুলো ভরাট হয়ে পানি প্রবাহ কমে যায়।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন পঞ্চায়েত বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সারা দেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শরণখোলা উপজেলাতেও খাল খনন কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। খনন কাজ শেষ হলে কচুরিপানা ও আগাছা দূর হবে এবং মানুষ আবারও ভালো পানি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। তিনি জানান, কিছু অসাধু ব্যক্তি নিয়ম না মেনে খাল আটকে মাছ শিকার করায় কচুরিপানা জমে জনদুর্ভোগ তৈরি হচ্ছে। ইতোমধ্যে তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন এবং খুব শিগগিরই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে খালগুলো পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন