
বাগেরহাটের শরণখোলায় এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এসবি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সালেহর বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রবিবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের ৩নং উত্তর তাফালবাড়ী ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদ মুন্সির বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘরসহ আসবাবপত্র ও মূল্যবান নথিপত্র হারিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন ওই শিক্ষক পরিবার।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রান্নাঘরের চুলার আগুন থেকে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা টিনশেড কাঠের ঘরটিতে ছড়িয়ে পড়ে। প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও শুষ্ক মৌসুমের কারণে বাড়ির পুকুর ও আশপাশে পানির তীব্র সংকট থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি।
খবর পেয়ে শরণখোলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আফতাবী আলমের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি দল বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। তবে যাতায়াতের রাস্তা অত্যন্ত সরু ও জরাজীর্ণ হওয়ায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি সময়মতো পৌঁছাতে পারেনি। এছাড়া পাইপ বসানোর মতো কাছাকাছি কোনো পানির উৎস না থাকায় প্রায় আধা কিলোমিটার দূরের একটি খাল থেকে পানির ব্যবস্থা করতে হয়। ফায়ার সার্ভিস পৌঁছানোর আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষক আবু সালেহ জানান, আগুনে তাঁর বসতঘর, আসবাবপত্র, স্বর্ণালঙ্কার, জমির দলিলসহ জীবনের সঞ্চিত সব মূল্যবান কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি দাবি করেন, এই অগ্নিকাণ্ডে তাঁর আনুমানিক ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে পরিবারটি খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় এলাকার অনুন্নত রাস্তাঘাট ও খালগুলো কচুরিপানায় ভরাট থাকা। সাউথখালী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি শহিদুল আলম লিটন বলেন, “এলাকার খালগুলো দ্রুত খনন করা এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি চলাচলের উপযোগী রাস্তা করা এখন সময়ের দাবি।” ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকের জন্য সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন