
ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার একটি সরকারি কবরস্থানের মাটি ভরাট প্রকল্পে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কাছে এ সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ করেন নলছিটি পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম। অভিযোগে বলা হয়েছে, নলছিটি পৌরসভার মল্লিকপুর সরকারি কবরস্থানে মাটি ভরাটের জন্য টিআর (টেস্ট রিলিফ) প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১৫ হাজার টাকার একটি উন্নয়নমূলক কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় অতিরিক্ত খরচের কথা বলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আওলাদ হোসেন মোট ৯ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোহাম্মদ অলিউল ইসলাম দাবি করেন, কবরস্থানের মাটি ভরাটের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার স্বার্থে এবং প্রশাসনিক নানা চাপের মুখে পড়ে তারা বাধ্য হয়ে ওই টাকা দিতে সম্মত হন। তিনি আরও বলেন, একটি ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়নমূলক কাজে সরকারি কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ ধরনের অর্থ দাবি করা অত্যন্ত অনৈতিক এবং তা সরকারি সেবার নীতিমালার পরিপন্থী।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কবরস্থানটি স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি ধর্মীয় স্থান। সেখানে মাটি ভরাটের কাজটি অত্যন্ত জরুরি হওয়ায় প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের প্রয়োজন ছিল। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় অতিরিক্ত অর্থ দাবি করায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় অভিযোগকারী জেলা প্রশাসনের কাছে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) আওলাদ হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। প্রথমবার ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পর তিনি ফোন কেটে দেন। পরবর্তীতে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কাছ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্তের জন্য জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ শাখার উপপরিচালক (ডিডি এলজি) কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর তা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এতে প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা আরও দৃঢ় হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন