
মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর কবে উদযাপিত হবে, তা নির্ধারণে আগামী ১৯ মার্চ বৈঠকে বসছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ওইদিন সন্ধ্যায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের সভাকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। সভা শেষে দেশের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেছে কি না—সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে এবং সেই অনুযায়ী ঈদুল ফিতরের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, আবহাওয়া অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত তথ্যও যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঈদের তারিখ ঘোষণা করা হবে।
এদিকে জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী চলতি বছর পবিত্র রমজান মাস ৩০ দিনে পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও গবেষণা সংস্থার বিশ্লেষণেও এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৮ মার্চ আকাশে নতুন চাঁদ দেখা যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইমিরেটস অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আল জারওয়ান জানান, ১৯ মার্চ দুবাই সময় ভোর ৫টা ২৩ মিনিটে নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওইদিন সূর্যাস্তের পর প্রায় ২৯ মিনিট পর্যন্ত চাঁদ দিগন্তের ওপরে অবস্থান করতে পারে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে ওই দিন সন্ধ্যায় চাঁদ দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল বলে মনে করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
এই হিসাব অনুযায়ী মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০ মার্চ পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এ বিষয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের তথ্য-উপাত্ত বিবেচনায় নিয়ে বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশ এবার একই দিনে ঈদ উদযাপনের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতে পারে।
তবে ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী ঈদের তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখার বিষয়টিই চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হয়। তাই প্রতিটি দেশের নিজস্ব জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটিই এ বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।
সাধারণত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ঈদ উদযাপনের একদিন পর বাংলাদেশে ঈদ পালন করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় যদি সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে ২০ মার্চ ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়, তাহলে বাংলাদেশে ২১ মার্চ শনিবার ঈদ উদযাপিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে ঈদকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। বাজার-ঘাট, শপিংমল এবং গ্রামীণ হাটবাজারে বেড়েছে মানুষের ভিড়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠকের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন