
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় সংঘটিত এক চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও গণধর্ষণ মামলায় ডাকাত দলের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। দীর্ঘ অনুসন্ধান ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে মূল ঘটনার সঙ্গে জড়িত ইউসুফ ওরফে রুবেল (৩৭) নামের ওই আসামিকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তার ইউসুফ লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার চরগাজী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরলক্ষী গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই এলাকার আব্দুল হালিমের ছেলে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে র্যাব-১১, সিপিসি-৩, নোয়াখালী কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে র্যাব-১১ (সিপিসি-৩) নোয়াখালী এবং র্যাব-৭ (সিপিএসসি) পতেঙ্গা, চট্টগ্রামের একটি যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নোয়াখালীর সুধারাম মডেল থানা এলাকা থেকে ইউসুফ ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ জানুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার দিকে নোয়াখালী সদর উপজেলার কালাধরা ইউনিয়নে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল একটি বাড়িতে ডাকাতির সময় নারকীয় গণধর্ষণের ঘটনা ঘটায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পরপরই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে র্যাব-১১, সিপিসি-৩ নোয়াখালী ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত তিনজন পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করলে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। ওই তথ্যের ভিত্তিতে দীর্ঘ সময় ধরে অভিযান ও নজরদারি চালিয়ে র্যাব সদস্যরা ইউসুফ ওরফে রুবেলকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর সেরনিয়াবাত বলেন, “গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সুধারাম মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার অন্যান্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে র্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় অপরাধীদের একে একে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন