
ঝালকাঠি পৌরসভার আওতাধীন খাল খনন প্রকল্পে অনিয়ম ও ধীরগতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমির বিল্ডার্স লিঃ-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে কাজ সম্পন্ন না করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) পৌরসভার পক্ষ থেকে জারি করা নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের আওতায় ৭টি খাল খননের দায়িত্ব দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত কোনো খালের কাজই সম্পূর্ণভাবে শেষ করে পৌরসভাকে হস্তান্তর করা হয়নি। এর মধ্যে ৬টি খালের কাজ আংশিকভাবে শুরু করা হলেও সেগুলোর কোনোটিই চূড়ান্তভাবে শেষ হয়নি। অপর একটি খালের কাজ এখনো শুরুই করা হয়নি।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, একাধিকবার তাগাদা দেওয়ার পরও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সন্তোষজনক অগ্রগতি দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি ২টি খালের আংশিক খনন কাজ সম্পন্ন করলেও তা যথাযথভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। অন্য খালগুলোর কাজেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এতে পৌরসভার কার্যক্রম ও ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রকল্পের মোট চুক্তিমূল্য ১ কোটি ৩৩ লাখ ১২ হাজার ৩৭৭ টাকা। এর বিপরীতে সম্পাদিত কাজের বিল হিসেবে ইতোমধ্যে ৫২ লাখ ৭১ হাজার ১১ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কিন্তু প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি সেই তুলনায় সন্তোষজনক নয়। ফলে পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে এবং ডেঙ্গুসহ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাজ শতভাগ সম্পন্ন না করেই ঠিকাদার চূড়ান্ত বিল উত্তোলনের আবেদন করেছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন মহল থেকে চাপ ও হুমকি প্রদানের অভিযোগও উঠে এসেছে, যা প্রশাসনিকভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) টি.এম. রেজাউল হক রিজভী জানান, ঠিকাদারকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব পাওয়া না গেলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা, ২০২৫ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে জামানত বাজেয়াপ্ত করা এবং ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশও থাকতে পারে।
অন্যদিকে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আজমির বিল্ডার্স লিঃ-এর প্রোপাইটার মোঃ সরোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কাজের নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পর ইতোমধ্যে এক বছরের বেশি সময় পার হয়েছে। এতদিন পর হঠাৎ করে শোকজ নোটিশ জারি করাকে তিনি অযৌক্তিক মনে করেন। তার দাবি, তারা নির্ধারিত সময়েই কাজ সম্পন্নের জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং কাজ শেষও করেছেন।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এখন ঠিকাদারের জবাব ও পৌরসভার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা।
মন্তব্য করুন