
ঝালকাঠির কাঠালিয়ায় পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে অসহায় ও দুস্থদের মাঝে শাড়ি, লুঙ্গি ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ করেছে কাঠালিয়া প্রেসক্লাব। এই মানবিক উদ্যোগে উপকারভোগীদের মুখে ফুটেছে আনন্দের হাসি এবং সামাজিক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে গেছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল ১১টায় কাঠালিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মকবুল হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসউদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. আরিফ হোসেন এবং রুপালী ব্যাংক কাঠালিয়া শাখার শাখা ব্যবস্থাপক মো. নাঈম আহম্মেদ। অনুষ্ঠানটি শিল্পপতি মো. আরিফ হোসেনের সহযোগিতায় সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও মো. মকবুল হোসেন বলেন, “সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে এসে এমন মানবিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া উচিত। এতে সমাজে সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায় এবং সামাজিক সম্প্রীতি দৃঢ় হয়।” তিনি কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের উদ্যোগকে প্রশংসনীয় হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এই ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি শিল্পপতি মো. আরিফ হোসেন বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের সবার দায়িত্ব। এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং অসহায়দের আশা ও সাহস জাগিয়ে তোলে।”
অনুষ্ঠানে প্রায় ২৫০ জন অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মধ্যে শাড়ি, লুঙ্গি, এবং ঈদের খাদ্য সামগ্রী যেমন সেমাই, চিনি ও দুধ বিতরণ করা হয়। উপকারভোগীরা এ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে organisers-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সুধীজন, সাংবাদিক ও জনপ্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, এমন মানবিক উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়ানো এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
কাঠালিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ মাসউদুল আলম বলেন, “প্রেসক্লাব সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে প্রতিবছর এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। আমরা চাই সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একে অপরের পাশে দাঁড়াক এবং ঈদের আনন্দে অংশীদার হোক।”
উপকারভোগীরা জানান, এই আয়োজন তাদের ঈদ উদযাপনকে আরও আনন্দময় করেছে। সামাজিক সংগঠন ও বিত্তবানদের সহযোগিতায় স্থানীয় জনগণ এমন উদ্যোগকে ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা করছে। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, মানবিক সহমর্মিতা ও একতার বন্ধন সমাজে ঈদের আনন্দকে আরও অর্থবহ করে তোলে।
মন্তব্য করুন