
নোয়াখালীর সেনবাগে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যা সেনবাগবাসীর মধ্যে দেশপ্রেমের উজ্জ্বল পরিবেশ সৃষ্টি করে।
দিনের শুরুতে স্থানীয় সাংসদ জয়নুল আবদিন ফারুক, উপজেলা প্রশাসন, বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপর সেনবাগ সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মনোমুগ্ধকর শারীরিক কসরত প্রদর্শন করে। এছাড়া ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেনবাগ-সোনাইমুড়ি আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদিন ফারুক। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুর পেয়ারা, সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ আবুল বাশার, ওসি (তদন্ত) হযরত আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক এম এ আজিম চৌধুরী, জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন স্মৃতি উদযাপন করেন। তিনি বলেন, “এখন আর ভেদাভেদ নয়, প্রতিহিংসা নয়—সব ভুলে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।” এছাড়া তিনি প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন যে, মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সঠিক ভূমিকা রাখতে হবে।
দিবসের দ্বিতীয় পর্বে সেনবাগ উপজেলা মডেল মসজিদ মিলনায়তনে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথিকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ফুল ও উপহার সামগ্রী দিয়ে সম্মানিত করা হয়।
সমগ্র আয়োজনটি সেনবাগবাসীর মধ্যে জাতীয় ঐক্য ও দেশপ্রেমের অনুপ্রেরণা জাগিয়ে তুলেছে। মহান স্বাধীনতা দিবসের তাৎপর্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এই ধরনের কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্তব্য করুন