
চৌদ্দগ্রামে মোঃ এয়াছিন (৪০) নামের এক ফল ব্যবসায়ীকে চাঁদার দাবিতে আটক করে দিনভর শারীরিক নির্যাতন চালানোর ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করেছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুইজনকে গ্রেফতার করেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামী করে চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেছেন।
নির্যাতনের শিকার এয়াছিন ফেনী সদর এলাকার অলুকিয়া গ্রামের আবদুল জলিলের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম বাজারে ফল ব্যবসা করে আসছেন। জানা গেছে, স্থানীয় চৌদ্দগ্রাম বাজারে জিল্লুর রহমান ও সোহাগ প্রকাশ মুন্নাসহ কয়েকজন বিভিন্ন পরিবহন থেকে জিবি নামের চাঁদা আদায় করতেন এবং এয়াছিনের সাথে তাদের পূর্ব পরিচয় ছিল।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, গত বুধবার দুপুরে জিল্লুর রহমান মোবাইলে ফোন করে এয়াছিনকে ২০০ টাকা ধার দিতে বললে তিনি রাজি হন। এরপর তিনি ২’শ গজ দূরে অবস্থিত পরিত্যক্ত স্কুল ভবনে গিয়ে টাকা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করলে, জিল্লুর ও মুন্নাসহ আরও তিনজন তাকে জোরপূর্বক আটক করে। ৫ জন মিলিত হয়ে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে এবং এয়াছিন টাকা দিতে অক্ষম হওয়ায় লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাকে দিনভর পিটিয়ে গুরুতর জখম করে।
পরিত্যক্ত স্কুলের রুমে অজ্ঞান হয়ে পড়লেও তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে এক সময় পালানোর চেষ্টা করেন এয়াছিন। এরপরও তাকে আবার পিটুনি দেওয়া হয়। স্থানীয়রা তার চিৎকার শুনে থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে স্থানীয় সহায়তায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ এ ঘটনায় জিল্লুর রহমান (৩০) ও সোহাগ প্রকাশ মুন্নাকে গ্রেফতার করেছে। পালিয়ে যাওয়া আরও তিনজন—রাহিম (২৬), মনির (২৫) ও টুটুল (৩০)—কে গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু মাহমুদ কায়সার হোসেন জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক অর্থ দাবি করা একটি দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা দ্রুত আইনগত পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং অপর তিনজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছি।”
স্থানীয়রা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছেন। তাদের দাবি, বাজারে সাধারণ ব্যবসায়ী ও মানুষদের ওপর এই ধরনের চাঁদাবাজি ও নির্যাতন রুখে দিতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
মন্তব্য করুন