
নোয়াখালীর সদর উপজেলায় মাদক সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে মো. নিরব (২৬) নামের এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষ। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পুলিশ নিহতের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে নোয়াখালী চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঘটনা রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে আন্ডারচর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাইজচরা গ্রামের বাংলাবাজারের উত্তর পাশে কালা দুলালের বাড়ির সামনে ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহত নিরব একই এলাকার আব্দুল গনির ছেলে এবং পেশায় একজন স’মিল শ্রমিক ছিলেন।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিরব কিছুদিন ধরে মাদক সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। কয়েকদিন আগে একই গ্রামের ইটভাটা শ্রমিক রুবেল মাঝির (২৮) ভাতিজার সঙ্গে তার দ্বন্দ্ব শুরু হয়। রোববার সকাল ১০টার দিকে নিরব তার তিন সহযোগী নিয়ে বাংলাবাজারে রুবেল মাঝির ওপর হামলা চালান, যার ফলে রুবেল মাঝির ৩-৪ জন অনুসারী আহত হন।
এরপর উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। দুপুর ১২টার দিকে নিরবের অনুসারীরা রুবেল মাঝির বাড়ির সামনে গেলে রুবেল মাঝির লোকজন তাকে আটক করে। পরে তাকে বেধড়ক মারপিট ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ নিরবকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের পিতা মো. জহির ওরফে আব্দুল গনি রোববার রাতে ২২ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পরপরই পুলিশ দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে রোববার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে পূর্ব মাইজচরা গ্রামের আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশি অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।
মন্তব্য করুন