
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় অনুমোদনবিহীন ও অনিয়মে পরিচালিত একাধিক বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে পরিচালিত এ অভিযানে একটি হাসপাতালকে জরিমানা এবং আরেকটি প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়।
অভিযানটি পরিচালনা করেন শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ব্যারিস্টার সজীব আহমেদ এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম। এ সময় স্থানীয় প্রশাসনের অন্যান্য সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রথমে ‘জহির ডায়াগনস্টিক চক্ষু অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল’-এ অভিযান চালায়। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ফায়ার সার্ভিসের কোনো অনুমোদন নেই। এছাড়া হাসপাতালের বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতিতে গুরুতর কারিগরি ও যান্ত্রিক ত্রুটি লক্ষ্য করা যায়, যা রোগীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল ত্রুটি সংশোধনের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ‘মাওনা সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ট্রমা সেন্টার’-এ অভিযান চালালে এক নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকসহ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে পালিয়ে যান। আদালতের সদস্যরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান, হাসপাতালের লাইট ও ফ্যান বন্ধ অবস্থায় রয়েছে এবং কেবল একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী উপস্থিত আছেন।
এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে সন্দেহ সৃষ্টি হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত একটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল ফোন জব্দ করে এবং প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়, যাতে ভবিষ্যতে অনুমোদন ছাড়া কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা না যায়।
অভিযান শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোঃ শফিকুল ইসলাম বলেন, বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও যন্ত্রপাতির মান নিশ্চিত না হলে তা রোগীদের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মাওনা সেন্ট্রাল ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড ট্রমা সেন্টারের কর্তৃপক্ষের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা প্রমাণ করে তারা নিয়মনীতি মেনে চলছিল না। জনস্বার্থে এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে এবং ভবিষ্যতেও নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ ধরনের অভিযানের প্রশংসা করেছেন এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রশাসনের কঠোর অবস্থানকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন।
মন্তব্য করুন