
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় সেবার মান উন্নয়নে সহায়তা হিসেবে দুটি পাক ফ্যান হস্তান্তর করেছে নবাবগঞ্জ জেলা কলেজ শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি “নজেকশিস”। মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া এই উদ্যোগকে স্থানীয়ভাবে প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
রবিবার (৫ এপ্রিল) সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে সংগঠনটির পক্ষ থেকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের হাতে ফ্যান দুটি তুলে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান ফ্যান গ্রহণ করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আব্দুস সামাদ এবং শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মাহাফুজ রায়হান। তারা সংগঠনটির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, হাসপাতালে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে ওয়ার্ডগুলোতে চাপ বেড়ে যায় এবং পর্যাপ্ত সরঞ্জামের অভাবে রোগীদের কিছুটা ভোগান্তি পোহাতে হয়। এ ধরনের সহায়তা রোগীদের আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে “নজেকশিস”-এর পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহা. তরিকুল আলম সিদ্দিকি, সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল আখতার, সহ-সভাপতি মো. শারওয়ার আলম, সদস্য মো. রানা, মো. ইকবাল হোসেন, মো. শামসুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ কবির এবং সহ-সম্পাদক মো. নুরুল ইসলামসহ অন্যান্য সদস্যরা।
সংগঠনের নেতারা জানান, “মানুষ মানুষের জন্য”—এই মানবিক দর্শন থেকেই তাদের এই উদ্যোগ। তারা মনে করেন, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এগিয়ে এলে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব। বিশেষ করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সেখানে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা সময়ের দাবি।
বক্তারা আরও বলেন, ছোট ছোট উদ্যোগের মাধ্যমে বড় পরিবর্তন সম্ভব। হাসপাতালের রোগীদের জন্য একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি করতে এমন সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
অনুষ্ঠান শেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ “নজেকশিস”-এর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে এবং এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ অন্যদেরও অনুপ্রাণিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এ ধরনের সহায়তা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত, যা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হলে সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সহজতর হবে।
মন্তব্য করুন