সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় গাবুরা ইউনিয়নে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় অভিযোজন কৃষি চর্চা বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফেইথ ইন এ্যাকশন। সংস্থাটি কানাডিয়ান দাতা সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিনিউ-এর আর্থিক সহায়তায় “জলবায়ু সহনশীল জনগোষ্ঠী তৈরি” শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে, যার আওতায় ১৫টি গ্রামের ২০১৫টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে গত ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত গাবুরা ইউনিয়নের ১৭৩ নং সোরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিন দিনব্যাপী লবণ সহনশীল কৃষি ফসল ও সবজি চাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণে নারী ও পুরুষ মিলিয়ে মোট ২৫ জন অংশগ্রহণকারী সরাসরি অংশ নেন। তবে প্রকল্পের আওতায় ৮টি ব্যাচে মোট ২০০ জন নারী-পুরুষকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যা ইউনিয়নের চারটি মৌজায় বিস্তৃতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।
প্রশিক্ষণের সমাপনী অনুষ্ঠান ৯ এপ্রিল বিকাল ৪টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম. মাছুদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মনজুর হোসেন, স্থানীয় শিক্ষক মিলন হোসেন এবং বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক।
প্রশিক্ষণে কৃষি বিষয়ক কারিগরি সহায়তা প্রদান করেন শ্যামনগর উপজেলা কৃষি অফিসের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান। এছাড়াও প্রকল্পের প্রজেক্ট অফিসার পরিতোষ কুমার বৈদ্য, মিল অফিসার প্রিন্স মার্ক বিশ্বাস এবং কমিউনিটি ফ্যাসিলিটেটর হৈমী মন্ডলসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তারা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলে কৃষির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিযোজন কৌশলের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ওমর ফারুক বলেন, “ফেইথ ইন এ্যাকশন যে প্রশিক্ষণটি দিচ্ছে, তা বাস্তব জীবনে কাজে লাগাতে হবে। এতে গাবুরায় সবজি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে এবং কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হবে।”
ইউপি সদস্য মো. মনজুর হোসেন বলেন, “প্রশিক্ষণের জন্য সঠিক কৃষক নির্বাচন করা হয়েছে। আমি আশা করি, অংশগ্রহণকারীরা এই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন।”
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আফতাবুজ্জামান বলেন, “আমি দীর্ঘদিন এখানে কাজ করছি, কিন্তু এ ধরনের কার্যকর প্রশিক্ষণ খুব কম দেখা গেছে। এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।”
প্রধান অতিথি জি.এম. মাছুদুল আলম তার বক্তব্যে বলেন, “এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে গাবুরায় কৃষি খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। অংশগ্রহণকারীরা যেন বাস্তবে এই জ্ঞান প্রয়োগ করেন, সেটিই আমাদের প্রত্যাশা।”
উল্লেখ্য, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ২০০ জন নারী-পুরুষকে অভিযোজন কৃষি চর্চা জোরদার করতে বীজ, জৈব সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহ করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন। এ উদ্যোগ উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিমত।
মন্তব্য করুন