সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় ষাঁড়ের লড়াই ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও গণসমাবেশ করেছে স্থানীয় সর্বদলীয় তাওহীদি জনতা। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে উপজেলার পৌর পয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচি পালিত হয়। ‘নিষ্ঠুরতা আর কত, ষাঁড়ের লড়াই বন্ধ করো’—এমন স্লোগানে মুখরিত হয়ে অংশগ্রহণকারীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি জগন্নাথপুর উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পৌর পয়েন্টে এসে এক গণসমাবেশে মিলিত হয়। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা ষাঁড়ের লড়াইকে একটি নিষ্ঠুর ও অমানবিক খেলা হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সৈয়দপুর টাইটেল মাদ্রাসার মুহতামীম মাওলানা শায়খ সৈয়দ ফখরুল ইসলাম। যৌথভাবে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সাইফুর রহমান সাজাওয়ার এবং পৌর জামায়াতের সভাপতি ওয়ালি উল্লাহ।
বক্তব্য রাখেন শায়খ মাওলানা হাজী এমদাদুল্লাহ শায়খে কাতিয়া, ইকড়ছই আলিম মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আকবর হোসেন জামী, জগন্নাথপুর সাংবাদিক ফোরামের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও ভোরের কাগজ প্রতিনিধি রিয়াজ রহমান, খোলা কাগজ প্রতিনিধি আল আমিন, জগন্নাথপুর সাংবাদিক প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সানোয়ার হোসেন সুনু, সিনিয়র সাংবাদিক জহিরুল ইসলাম লালসহ আরও অনেকে।
বক্তারা বলেন, ষাঁড়ের লড়াই একটি প্রাচীন ও বিতর্কিত খেলা, যেখানে প্রাণীদের নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। দর্শকদের বিনোদনের জন্য এ ধরনের কার্যক্রম সম্পূর্ণ অমানবিক এবং ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও গ্রহণযোগ্য নয়। তারা দাবি জানান, অবিলম্বে জগন্নাথপুরে এ ধরনের আয়োজন বন্ধ করতে হবে।
সমাবেশ থেকে প্রশাসনের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বক্তারা বলেন, যদি জগন্নাথপুরে পুনরায় ষাঁড়ের লড়াই আয়োজন করা হয়, তবে আগামী মঙ্গলবার থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এর মধ্যে ধর্মঘট পালন ও উপজেলা পরিষদ ঘেরাওয়ের মতো কর্মসূচি থাকতে পারে বলে জানান তারা। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে এর দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকেই নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ার করেন বক্তারা।
এসময় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণ মিলে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তারা বলেন, প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধ করে নৈতিকতা ও মানবিকতা প্রতিষ্ঠা করাই এখন সময়ের দাবি।
বিক্ষোভ ও গণসমাবেশ ঘিরে এলাকায় ব্যাপক জনসমাগম দেখা যায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
মন্তব্য করুন