দিনাজপুরের হিলিতে জাতীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে হাম-রুবেলা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় হাকিমপুর পৌরসভা কার্যালয়ের সামনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত, মেডিকেল অফিসার ডা. ইফতেখার জাহানসহ স্বাস্থ্য বিভাগের অন্যান্য কর্মকর্তা, কর্মচারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, হাম ও রুবেলা অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা বিশেষ করে শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। সময়মতো টিকা প্রদান করলে এই রোগগুলো সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব। তাই নির্ধারিত বয়সসীমার সকল শিশুকে এই টিকার আওতায় আনার জন্য অভিভাবকদের সচেতন হওয়া অত্যন্ত জরুরি।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তানভীর হাসনাত জানান, চলতি বছরের ২০ এপ্রিল থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সময়ের মধ্যে উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে নির্ধারিত টিকাদান কেন্দ্রের মাধ্যমে শিশুদের টিকা প্রদান করা হবে।
তিনি আরও জানান, এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৯৭টি টিকাদান কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মাধ্যমে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী মোট ১০ হাজার ৫৭০ জন শিশুকে হাম-রুবেলা টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে টিকাদান কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা তার বক্তব্যে বলেন, “সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি সফল করতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ সম্মিলিতভাবে কাজ করছে। কোনো শিশু যেন টিকার বাইরে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।” তিনি অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিশুদের নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে এসে টিকা প্রদান নিশ্চিত করার জন্য।
স্থানীয় সচেতন মহল এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হাকিমপুর উপজেলায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে এবং এর মাধ্যমে হাম ও রুবেলা রোগের সংক্রমণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টিকাদান কার্যক্রম চলাকালীন প্রতিদিন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী কেন্দ্রগুলো খোলা থাকবে এবং কোনো ধরনের জটিলতা এড়াতে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী মোতায়েন রাখা হয়েছে।
মন্তব্য করুন