গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বান্ধাবাড়ী এলাকায় জান্নাত আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় নিহতের স্বামী রাজিব আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।
নিহত জান্নাত আক্তার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই এলাকার শুকুর আলীর মেয়ে। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে পারিবারিকভাবে রাজিব আহমেদের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ ও অশান্তি চলছিল বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার দিন সকালেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজিব আহমেদ তার শাশুড়ি নবীরন বিবিকে ফোন করে জান্নাতকে নিয়ে যেতে বলেন এবং তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পরপরই পরিবারে চরম উদ্বেগ দেখা দেয়।
পরে খবর পেয়ে নিহতের বাবা শুকুর আলী দ্রুত মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে তিনি বিছানায় মেয়ের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে জান্নাত আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল শেষে লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিবারের দাবি, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যা এবং দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে ঘটনার পরপরই পুলিশ নিহতের স্বামী রাজিব আহমেদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। প্রাথমিকভাবে তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
কালিয়াকৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সহিদুল ইসলাম জানান, “লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য স্বামীকে আটক করা হয়েছে। নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।”
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, পারিবারিক কলহের বিষয়টি আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল, তবে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে তা কেউ ধারণা করতে পারেনি।
পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মন্তব্য করুন