সিলেটে ইজারা ব্যবস্থা, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা সভা করেছে বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সিলেট জেলা শাখা। সভা থেকে বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে।
রোববার সিলেট প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে ‘ইজারা ব্যবস্থা—প্রেক্ষাপট ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের সভাপতি খালেদ উদ দীনের সভাপতিত্বে সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ আহমেদ।
সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল সিলেট জেলা শাখার সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মকবুল, প্রবীণ রাজনীতিক ও বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সদস্য নুরুল হুদা সালেহ, সংগঠনের সিলেট জেলা শাখার সাবেক সহসভাপতি আকলিছ আহমেদ চৌধুরী, কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, সদস্য জুনেদ আহমেদ, গোয়াইনঘাট উপজেলার দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ, বাংলাদেশ লেখক শিবির সিলেট জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক কবি মজনু মুহিবুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ও সাংবাদিক বদরুল ইসলাম মহসিন, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন সিলেট জেলা শাখার সদস্য শিরিন মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ইউসুফ জামিল, সিনিয়র সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী মো. মুহিবুর রহমান এবং অর্থনীতির সহকারী অধ্যাপক শামসুল কিবরিয়াসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
মূল প্রবন্ধে মিনহাজ আহমেদ ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিদ্যমান আইন ও এর প্রয়োগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ইজারা ব্যবস্থার কারণে অর্থনীতিতে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।
গোয়াইনঘাট উপজেলার দক্ষিণ প্রতাপপুরের বাসিন্দা শাওন দেবনাথ তার বক্তব্যে বালু উত্তোলনের কারণে দক্ষিণ প্রতাপপুর গ্রামের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার কৃষক-মজুর-মৎস্যজীবী সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মো. সাহেব আলী উথাইরা গাংয়ে পরিবেশ বিপন্ন করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
সংগঠনের আরেক সমন্বয়ক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জনগণের সম্পদ বালু, মাটি, পাথর ও জলাশয়ের ওপর অধিকার প্রতিষ্ঠায় মানুষকে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। নুরুল ইসলাম মকবুল ইজারা ব্যবস্থার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং এ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনগণের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয় তুলে ধরেন।
সাংবাদিক বদরুল ইসলামের বক্তব্যে নদী-খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের বিষয়টি উঠে আসে। দোয়ারাবাজারের বাসিন্দা ও শ্রমিক নেতা আব্দুর রাজ্জাক স্থানীয় ভূমিদস্যুদের মাধ্যমে বালু ও মাটি উত্তোলনের অভিযোগ তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে খালেদ উদ দীন বালু, মাটি, পাথর ও পানিসহ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর জনগণের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠায় ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০ বাতিল করা, বালু-মাটি-পাথর ও পানি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় অধিবাসীদের সম্পৃক্ত করে নীতিমালা প্রণয়ন, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যক্তি খাতে ইজারা না দেওয়া এবং অভিযুক্ত ইজারাদারদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করা।
এ ছাড়া হাইড্রোগ্রাফিক, বাথিমেট্রিক সার্ভে ও নদীর গঠনগত সমীক্ষার ভিত্তিতে বালুমহাল ও জলমহালের সীমানা নির্ধারণ, বালু-মাটি-পাথর ও পানি উত্তোলন এবং বিক্রয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া, নদীর ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ, প্রতিবেশ, জীববৈচিত্র্য, মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষার দাবিও জানানো হয়।
আলোচনা সভা থেকে এসব দাবি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে দাবি আদায়ে সংগঠিতভাবে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বক্তারা।
মন্তব্য করুন