পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর ইউনিয়নের করতোয়া নদীতে পাথর উত্তোলনের সময় মাটি ধসে পানির নিচে চাপা পড়ে আইয়ুব আলী (৩০) নামে এক পাথর শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে উপজেলার ঝালিঙ্গীগছ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় পাথর শ্রমিকদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত আইয়ুব আলী ঝালিঙ্গীগছ গ্রামের বাসিন্দা এবং মুসলিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে করতোয়া নদীতে সনাতন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলনের কাজ করতেন। পরিবার-পরিজনের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিকেলেও কয়েকজন শ্রমিকের সঙ্গে নদীতে নেমে পাথর উত্তোলনের কাজ করছিলেন আইয়ুব আলী। সনাতন পদ্ধতিতে ‘বেদা’ ব্যবহার করে নদীর তলদেশ থেকে পাথর তোলার সময় হঠাৎ নদীর পাড়ের উপরিভাগের মাটি ভেঙে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যে বিপুল পরিমাণ মাটি ও কাদা তার শরীরের ওপর এসে পড়ে এবং তিনি পানির নিচে চাপা পড়ে যান।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে সঙ্গে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। দীর্ঘ চেষ্টা শেষে তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরে দ্রুত পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনরা জানান, জীবিকার তাগিদে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে গিয়ে আইয়ুবের প্রাণ গেল। তারা দাবি করেন, নদীতে নিরাপদভাবে পাথর উত্তোলনের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় প্রায়ই দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, করতোয়া নদীতে দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাথর উত্তোলন কার্যক্রম চললেও শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুম ও নদীর পাড় নরম হয়ে যাওয়ার সময় এ ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লাইছুর রহমান জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও তিনি জানান।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল নদীতে পাথর উত্তোলনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা এবং শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মন্তব্য করুন