কক্সবাজারে গলা কাটা ও হাতের কব্জিবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ১১ এপ্রিল বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বিভৎস এ ঘটনার পরপরই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনার পর কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও বিভিন্ন সূত্র যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তিনি শাহিদা আক্তার রিপা (মুন্নি) নামে এক নারী।
পরবর্তীতে সন্দেহভাজন হিসেবে তার স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেককে আটক করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী স্ত্রীকে হত্যা করেন সাইফুল। তিনি রসমালাইয়ের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্ত্রীকে খাইয়ে অচেতন করে ফেলেন। পরে ধারালো ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করেন।
হত্যার পর নিজের অপরাধ আড়াল করতে মরদেহের মাথা ও দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করেন তিনি। এরপর মরদেহটি ঘটনাস্থলের পাশের একটি ডোবায় ফেলে দেন। অপরদিকে বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের অংশ খুরুশকুল নতুন ব্রিজ এলাকা থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করেন বলে স্বীকার করেন।
আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে।
এদিকে, নিহতের বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের কব্জি উদ্ধারে বাঁকখালী নদীতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত আছে।
মন্তব্য করুন