মহাদেব শিবকে তুষ্ট করতে এবং চৈত্র সংক্রান্তিতে তার আশীর্বাদ কামনায় নড়াইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী ‘খেজুর সন্ন্যাসী’ পূজা ও ‘খেজুর ভাঙা’ উৎসব। সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে নড়াইল সদর উপজেলার কোড়গ্রামের বিদ্যুৎ মল্লিকের বাড়ির আঙিনায় এই বর্ণিল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।
উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। সরেজমিনে দেখা যায়, কাঁটাযুক্ত খেজুর গাছের নিচে ঢাকঢোল, উলুধ্বনি আর শঙ্খধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ। সাদা ধুতি আর লাল গামছা কোমরে জড়িয়ে একদল সন্ন্যাসী ঢাকের তালে তালে নৃত্য করছেন। ভক্তদের অপলক দৃষ্টির মধ্যেই সন্ন্যাসীরা নাচতে নাচতে কাঁটাভরা খেজুর গাছের মগডালে উঠে পড়েন এবং সেখান থেকে কচি খেজুর ফল ভক্তদের দিকে ছুড়ে দেন। ভক্তরা সেই ফলকে ‘ভোগ’ হিসেবে পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত ও ভক্তিভরে গ্রহণ করেন।
উৎসবের নেপথ্য ও ঐতিহ্য নিয়ে আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সুদর্শন চক্রবর্তী বলেন, “এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের বহু বছরের পুরনো ঐতিহ্য। চৈত্র মাসে ‘পাট স্নান’ থেকে শুরু করে আমরা শিব ঠাকুরের নামে উপবাস থাকি। মূলত শিবভক্ত বানরাজের ত্যাগ ও ভক্তিকে স্মরণ করেই শিবকে তুষ্ট করতে আমাদের এই আরাধনা।”
পূজার পুরোহিত (বালা) সচিন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, “চৈত্র মাসে শিব যখন রুদ্র রূপ ধারণ করেন, তখন তাকে তুষ্ট করার জন্য এই উপাসনার বিধান রয়েছে। সেই প্রাচীন কাল থেকেই ভক্তরা চৈত্র সংক্রান্তিতে এই পূজার আয়োজন করে আসছেন।”
উৎসবে আসা চৈতি মল্লিক জানান, বাবার বাড়িতে প্রতিবছর এই আয়োজন দেখতে আসেন তিনি। খেজুর সন্ন্যাসীর পাশাপাশি এখানে কাঁটা সন্ন্যাসী, আগুন সন্ন্যাসী এবং নীল পূজার মতো নানা লোকাচার অনুষ্ঠিত হয়, যা দেখার জন্য শত শত দর্শনার্থী ভিড় জমান।
স্থানীয়রা মনে করেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সংরক্ষণের পাশাপাশি এ ধরণের লোকজ সংস্কৃতিগুলো টিকিয়ে রাখা জরুরি, যা আমাদের গ্রামীণ বাংলার হাজার বছরের ঐতিহ্যকে বহন করে চলেছে।
মন্তব্য করুন