রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের পূর্ব ঝাড়পাড়া গ্রামে মাওলানা সামসুল হক ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাতিজা শাহাদাত হোসেনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে সামসুল হক ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মামলায় উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম মিজানুর রহমানকেও আসামি করা হয়েছে। এ বিষয়ে মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনার দিন ১৫ জুন আমি বদরগঞ্জ শহরে ছিলাম। রাত পর্যন্ত দামোদরপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আবু জোবায়ের রাজার সঙ্গে অবস্থান করেছি। আমাকে জড়ানো সম্পূর্ণ মিথ্যা।”
এ বিষয়ে আবু জোবায়ের রাজা বলেন, “মিজানুর রহমান সত্য কথা বলেছেন। ১৫ জুন রাত প্রায় ১২টা পর্যন্ত তিনি আমার সঙ্গেই ছিলেন। এটি একটি সাজানো মামলা বলে মনে হচ্ছে।”
মামলার নথি অনুযায়ী, ১৫ জুন রাত ১১টার দিকে শাহাদাতের বাবা আব্দুল মজিদ টয়লেটে যাওয়ার সময় মাওলানা সামসুল হক ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এছাড়া সামসুল হকের ছেলে শহিদার রহমান শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করেন এবং মিজানুর রহমান মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
তবে অভিযুক্তদের দাবি, অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তাঁদের ভাষ্য, একজন ব্যক্তির ওপর এত গুরুতর হামলার অভিযোগ আনা হলেও তিনি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন, যা মামলার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
মাওলানা সামসুল হক ও তাঁর ছেলে বলেন, “পৈতৃক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে আমাদের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। জমি নিয়ে বিরোধের কারণে প্রতিপক্ষ আমাদের হয়রানি করছে। আমরা ন্যায়বিচার চাই।”
তাঁরা জানান, বিরোধপূর্ণ জমি নিয়ে আদালতে ১৪৪ ধারার একটি আবেদন বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। আদালতের বিষয়টি চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ তাঁদের বসতঘরের পাশ ঘেঁষে গভীর গর্ত খনন করেছে, যা ঘর ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৩৫ বছর ধরে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমিতে বসবাস করে আসছেন মাওলানা সামসুল হক। তিনি এলাকার একটি মসজিদের ইমাম হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং স্থানীয়দের কাছে শান্ত ও বিনয়ী মানুষ হিসেবে পরিচিত।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সামসুল হকের বসতঘরের খুব কাছে গভীর গর্ত খনন করা হয়েছে। এতে ঘরের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং বৃষ্টিপাত হলে ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামসুল হক বলেন, “আমার ভাই ও ভাতিজা দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। এখন ঘরের পাশে গর্ত করে বসতবাড়িটিকেও ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে। প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
তাঁর ছেলে সাইদুল ইসলাম বলেন, “তারা পৈতৃক সূত্রে সাড়ে ৪ শতক জমির অংশীদার হলেও জোরপূর্বক ১৮ শতক জমির দাবি করছে। এ কারণেই আমাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “একজন আলেম মানুষকে এভাবে মিথ্যা মামলায় জড়ানো দুঃখজনক। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত।”
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহাদাত হোসেন বলেন, “১৫ জুন রাতে আমার বাবার ওপর হামলা হয়েছে। আমরা আমাদের প্রাপ্য জমি চাইছি। প্রশাসন আগে সমাধানের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু সামসুল হক ও তাঁর ছেলে তা মানেননি।”
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই তানভীর বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তে যদি কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হন, তাহলে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে তাঁর নাম বাদ দেওয়া হবে।”
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন