কিশোরগঞ্জে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের মাঝে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ। সোমবার (২০ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১১টায় কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উদ্ধারকৃত এসব মোবাইল আনুষ্ঠানিকভাবে মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান, গত এক মাসে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫০টি চোরাই ও হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে মোবাইল ফোনগুলোর অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানান তিনি।
পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে বলেন, “সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সম্পদ রক্ষা করা পুলিশের অন্যতম দায়িত্ব। হারানো বা চুরি হওয়া মোবাইল উদ্ধারে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। আমরা চাই, মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা আরও বৃদ্ধি পাক এবং তারা যেকোনো সমস্যায় পুলিশের সহযোগিতা নিতে এগিয়ে আসুক।” তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কঠোর ভূমিকা পালন করবে।
তিনি এ সফল অভিযানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত সকল পুলিশ সদস্যকে ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) এর নেতৃত্বে পরিচালিত কার্যক্রমের প্রশংসা করে তিনি বলেন, সমন্বিত প্রচেষ্টার ফলেই এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা তাদের হারানো মোবাইল ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। অনেকেই জানান, হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফিরে পাওয়ার আশা তারা প্রায় ছেড়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের আন্তরিকতা, দক্ষতা এবং নিরলস প্রচেষ্টার কারণে তারা আবারও তাদের মূল্যবান জিনিস ফিরে পেয়েছেন। এ জন্য তারা জেলা পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মুকিত সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান তালুকদারসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা এবং উদ্ধার হওয়া মোবাইল ফোনের মালিকরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের হাতে হস্তান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ ধরনের উদ্যোগ জনমনে পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও সুদৃঢ় করবে এবং ভবিষ্যতে অপরাধ প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে আরও সচেতন ও সহযোগিতামূলক হতে উৎসাহিত করবে।
মন্তব্য করুন