কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা-এর গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের পূর্ব গোবরিয়া (পূর্ব পাড়া) গ্রামে লেয়ার মুরগির খামারের বিষ্ঠার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে স্থানীয় জনজীবন। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় গড়ে তোলা দুটি লেয়ার মুরগির খামারের বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলি জমি এবং বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে গত ১৯ মে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল হাসিমের ছেলে হোসেন আলী (৬২)। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেশী সাইফুল ইসলাম (৫০) ও দ্বীন ইসলাম (৫৫) দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়ির পাশেই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই লেয়ার মুরগির খামার পরিচালনা করে আসছেন। খামারের মুরগির বিষ্ঠা, নষ্ট ডিম, ডিমের খোসা ও মৃত মুরগি আশপাশে ফেলার কারণে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে পুরো এলাকায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খামারের বর্জ্যের পচা পানি আশপাশের কৃষিজমিতে ছড়িয়ে পড়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষকরা বিভিন্ন চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্যসমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। হোসেন আলী জানান, সম্প্রতি দূষিত পানির কারণে তার ১৮ শতাংশ বাদাম ক্ষেত, ১৪ শতাংশ ধান ক্ষেত ও ৪ শতাংশ চালকুমড়ার বাগান নষ্ট হয়ে প্রায় ৩০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন আরও কয়েকজন কৃষক।
খামারের দুর্গন্ধে স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন এলাকাবাসী। হোসেন আলীর স্ত্রী সমুজা বানু ও মাদরাসাপড়ুয়া মেয়ে জান্নাতসহ অনেকেই বমি, ডায়েরিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভুগছেন। স্থানীয় মসজিদের মুসল্লিরাও দুর্গন্ধের কারণে ঠিকমতো নামাজ আদায় করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
গ্রামের বাসিন্দা হাছেন আলী বলেন, “খামারের দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছে। খাওয়া-দাওয়া পর্যন্ত ঠিকমতো করতে পারছি না।” একই অভিযোগ করে জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী বলে, “বাড়িতে থাকলে বমি বমি লাগে। অন্যত্র গিয়ে খাবার খেতে হয়।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, খামারের আশপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে মুরগির বিষ্ঠা। পানিনিষ্কাশনের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। খামারের তিনপাশে বসতবাড়ি এবং পাশেই রয়েছে বাদাম, ধান ও চালকুমড়ার ক্ষেত। বর্তমানে একটি খামারে প্রায় এক থেকে দেড় হাজার মুরগি রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, জাতীয় পোলট্রি উন্নয়ন নীতিমালা-২০০৮ অনুযায়ী এমন ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় খামার স্থাপনের সুযোগ নেই। এছাড়া পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়নি।
অভিযুক্ত খামার মালিক সাইফুল ইসলাম দাবি করেন, আর্থিক সংকটের মধ্যেই তিনি খামার পরিচালনা করছেন। তিনি বলেন, ঝড়ের কারণে রাস্তা বন্ধ থাকায় বিষ্ঠা অপসারণ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টির পানিতে সেগুলো ছড়িয়ে পড়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও পরিবেশ দূষণ রোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
এ বিষয়ে গোবরিয়া আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল বলেন, স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে খামারটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তবে মালিকপক্ষ তা আমলে নেয়নি।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইয়াসিন খন্দকার অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন