কৃষকদের উৎপাদিত সবজি সংরক্ষণে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে মিনি হিমাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার বলে জানিয়েছেন কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী আমিনুর রশীদ। তিনি বলেন, কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যেই সরকার ইউনিয়ন পর্যায়ে মিনি হিমাগার স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবজি উৎপাদনের অন্যতম এলাকা দোহাজারীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ বিতরণ ও বীজতলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কৃষিবান্ধব নীতি অনুসরণ করছে। সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বিভাগের কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য বীজ, সার ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
পরে একই এলাকায় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পশুপাখির চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি খামারিদের মাঝে গো-খাদ্য, বিভিন্ন জাতের ভ্যাকসিন ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রণোদনা হিসেবে বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন আহমেদ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুর রহমান মণ্ডল, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আজাদ হোসেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক ডা. আছিয়া রহমান, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আলমগীর, পরিচালক (ট্রেনিং) ডা. শাহাব উদ্দিন, পার্বত্য জেলা প্রকল্প পরিচালক ডা. নুরুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. ফেরদৌস আক্তারসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, চন্দনাইশ উপজেলার ৪৫৫ জন বন্যাকবলিত খামারির জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মধ্যে দোহাজারী এলাকার ৫০ জন খামারির হাতে গো-খাদ্য, ভ্যাকসিন ও বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তুলে দেওয়া হয়।
অন্যদিকে কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলার প্রায় ২৮ হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে ১ হাজার ৯৫৫ হেক্টর আউশ ধান, ৯৮০ হেক্টর সবজি, ৭০ হেক্টর পেঁপে, ৫০ হেক্টর পান, আদা ও হলুদ, এবং ৩৫ হেক্টর আমনের বীজতলা সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠানে ১০০ জন কৃষকের মধ্যে প্রতি জনকে ৫ কেজি করে মোট ৫০০ কেজি বীজ বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। সরকারের এ সহায়তা কৃষকদের দ্রুত কৃষিকাজে ফিরতে সহায়ক হবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
মন্তব্য করুন