মৌলভীবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে শতাধিক বসতঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। বুধবার (৬ মে ২০২৬) রাতে হঠাৎ শুরু হওয়া এই ঝড়ের কারণে জেলার কমলগঞ্জ উপজেলা , রাজনগর উপজেলা এবং কলারোয়া উপজেলাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবৃষ্টি ও ঝড়ো বাতাসে ঘরবাড়ির টিনের চাল উড়ে যায়, বহু গাছ উপড়ে পড়ে এবং বিদ্যুতের খুঁটি ও তার ছিঁড়ে যায়। এতে করে কয়েকটি ইউনিয়নের হাজারো মানুষ রাত থেকেই বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
ঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ও মুন্সীবাজার এলাকা, রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়ন এবং কুলাউড়া উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়ন। এসব এলাকায় শতাধিক কাঁচা ও আধাপাকা ঘর আংশিক ও সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের বাসিন্দা রুহেল মিয়া বলেন, “রাতের ঝড়ে আমার ঘর সম্পূর্ণ উড়ে গেছে। শুধু আমার নয়, পুরো এলাকার অনেক পরিবারের ঘরবাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
অন্যদিকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনউষার ইউনিয়নের বাসিন্দা সুমন মিয়া ও নয়ন আহমেদ জানান, ঝড়ের সময় হঠাৎ গাছ উপড়ে তাদের ঘরের ওপর পড়ে যায়। এতে ঘরের চাল ভেঙে যায় এবং ঘরের ভেতরের আসবাবপত্রও নষ্ট হয়ে গেছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যাওয়ায় পুরো এলাকা অন্ধকারে ডুবে আছে বলে তারা জানান।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, ঝড়ে বিভিন্ন রাস্তাঘাটে গাছ পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় কাজ শুরু করেছে, তবে পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে।
কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “ঝড়ের কারণে পতনউষারসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছি। তালিকা পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হবে।”
এদিকে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবীরা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা ও পুনর্বাসনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে। ঝড়ের পর থেকে এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন